আড়াই টন ভায়াগ্রা পাউডার উদ্ধার : হুমকির মুখে কাস্টমস কমিশনার

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ১২:০২ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৯

পরপর আমদানি নিষিদ্ধ ভায়াগ্রা পাউডারের দুটি চালান আটকের পর সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেট বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ আড়াই টন ভায়াগ্রা পাউডার উদ্ধারের ঘটনায় কাস্টমস কমিশনারসহ অন্য ককর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টম হাউসে অপেক্ষমাণ একটি ট্রাকের উপকরণ দ্রুত খালাসের জন্য কাস্টম কর্তৃপক্ষের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি, এমনকি ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এ সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গোপন খবরের ভিত্তিতে ওই ট্রাকে থাকা আড়াই টন পাউডার আটক করে। পরে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরীক্ষায় ওই পাউডার ভায়াগ্রার বলে প্রমাণিত হয়। এর আগে আরও ২শ’ কেজি ভায়াগ্রা পাউডার আটক করা হয়।

সূত্রটি জানায়, একটি চক্র বেনাপোলকে ভায়াগ্রা পাউডার পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছিল। তারা প্রভাবশালীদের দিয়ে বৃহৎ এ চালান খালাসের জন্য তদবির করায়। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এনিয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা আতঙ্কে আছেন। চক্রটি অন্য সংস্থাকে দিয়ে তাদের তটস্থ রাখার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বৈধ পণ্যের আড়ালে ভায়াগ্রা জাতীয় উত্তেজক মাদক বেনাপোল বন্দরে ঢুকছে, গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে তারা আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেন। একই সঙ্গে কেমিক্যাল বা পাউডার জাতীয় পণ্যে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছিল। এরপর গত ৭ আগস্ট চালানটি আটক করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে একটি চক্র তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আইবি ট্রেডার্সের কাছ থেকে সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট ঘোষণায় পুরনো ঢাকার মিটফোর্ডের মেসার্স বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ এই চালানটি আমদানি করে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষায় এগুলো ভায়াগ্রা পাউডার বলে প্রমাণিত হয়। এর ঘোষিত মূল্য সাড়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু প্রকৃত মূল্য হয়েছে বাংলাদেশি সাড়ে ১২ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, আমদানিকারকের দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই করে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না হওয়া সত্ত্বেও ওষুধের কাঁচামাল আমদানির ঘোষণায় কাস্টমসের সন্দেহ আরও ঘনিভূত হয়। তারা নিজস্ব ল্যাবে পণ্যের নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা করলে মেশিনে ভায়াগ্রা প্রদর্শন করে। বারবার পরীক্ষায় একই ফলাফল পাওয়া যায়। এরপর ওই নমুনা আরও ৪টি ল্যাবে পাঠানো হয়। এভাবে পণ্যটি ৫ বার ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। সব পরীক্ষায় একই ফলাফল পাওয়া গেছে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বলেন, আড়াই টন উত্তেজক ভায়াগ্রা পাউডার আটকের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের টিম গঠন করা হয়। তদন্তে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কাস্টমসের প্রিন্সিপাল কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে এবং অধিকতর নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, বেনাপোল কেন্দ্রিক একটি চোরাচালানি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছে। তাদের সঙ্গে কাস্টমসেরও কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে কাস্টমস কমিশনারের নতুন উদ্যোগে একের পর এক অবৈধ পণ্যের চালান ধরা পড়ছে। এ কারণে একটি মহল খোদ কাস্টমস কমিশনারকেই নানাভাবে হেনস্তার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাই দেশব্যাপী চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

মো. জামাল হোসেন/এমএমজেড/পিআর