পিটিয়ে শিক্ষকের হাত-পা ভেঙে দিলেন সাবেক ইউপি সদস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০১৯

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাজিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছেন একই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান।

বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনা বকশীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তারিকুজ্জামান ছোটন বলেন, সাজিমারা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুর রহমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ কারণে হামিদুর রহমান নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে রাফিউল ইসলাম রাফি নামে এক শিশুকে স্কুলে ভর্তি করেন। কিন্তু হামিদুর রহমানের প্রতিপক্ষরা প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনার কাছে অভিযোগ করেন স্কুলছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফি হাফিজুর রহমানের সন্তান নয়। রাফি একই গ্রামের হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহর ছেলে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তারের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র চান। ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার তার প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, স্কুলছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফির বাবার নাম হামিদুর রহমান নাম দিয়ে যে জন্মসনদটি দাখিল করেছেন সেটি ভুয়া। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে স্কুলে একটি ভুয়া জন্মসনদ দাখিল করা হয়েছে। স্কুলছাত্র রাফির বাবার নাম হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহ।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনাকে স্কুলের একটি কক্ষে নিয়ে তালাবদ্ধ করে মারধর করেন হামিদুর রহমান। পরে অন্য শিক্ষক ও গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা বীনা বকশীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরুণা রায় বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কতৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিলক্ষিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে একজন শিক্ষিকাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়ার অপরাধে হামিদুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

এএম/এমকেএইচ