১৪ দিন পর ফিরছে বিএসএফের গুলিতে নিহতের লাশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
ফাইল ছবি

তিস্তার চরে গুলি করে হত্যার ১৪ দিন পর অবশেষে বাংলাদেশি যুবক বাবুল মিয়ার (২২) মরদেহ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ি সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তার মরদেহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানা গেছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে ডিমলা উপজেলা সীমান্তে তিস্তা নদীর চরে গরু চরাতে যান বাবুল মিয়া। এ সময় বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তিনি উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে।

ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, থানা পুলিশ ও বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ি সীমান্তে বাবুল মিয়ার মরদেহ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের কাছ থেকে বিজিবি গ্রহণ করবে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের ৩ তারিখ ভোরে ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর চরে গরু চড়াতে গিয়ে ভুলক্রমে ৭৭২ নং পিলারের কাছে বাবুল মিয়া, সাইফুল ইসলামসহ (১৪) কয়েকজন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে। এ সময় ভারতের উড়াল বিওপির বিএসএফ সদস্যরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল মিয়া নিহত হন।

এছাড়া উপজেলার ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৪) আহত হলেও বাকিরা ফিরে আসতে সক্ষম হন। পরে বিএসএফ আহত সাইফুলকে আটকসহ নিহত বাবুলের মরদেহ নিয়ে যায়। এরপর কোচবিহার জেলার কুচলিবাড়ি থানার পুলিশ বাবুলের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে হিমগারে রাখে।

এদিকে বাবুলের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তার পরিবার ও এলাকাবাসী সীমান্তে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেন।

এ বিষয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর প্রশাসনের সহযোগিতায় বাবুলের মরদেহ ফেরত পাচ্ছেন বলে সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার বাবা।

জাহেদুল ইসলাম/এমএমজেড/জেআইএম