ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পূর্বপাঁচগাঁও গ্রামের সোহাগ মৃধা (৩৩) হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন মা মাসুদা বেগম। তার দাবি একই গ্রামের সালাম হাওলাদার অরফে বয়রা সালাম (৪৭) সোহাগকে হত্যা করেছে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পরিবারের সদস্যসহ পূর্বপাঁচগাঁও গ্রামবাসী। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন করা হয়। এতে নিহতের মা মাসুদা বেগম, স্ত্রী নাসিমা বেগম, ভাই সোহেল মৃধা, তুহিন মৃধা, লিটন মৃধাসহ এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মাসুদা বেগম।

জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাতে নিখোঁজ হন সোহাগ মৃধা। পরে ১৮ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামের সুমন ওস্তাগারের বাড়ির পাশের ডোবায় স্থানীয়রা সোহাগের মরদেহ দেখতে পেয়ে নড়িয়া থানায় জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সোহাগের বড় ভাই সোহেল মৃধা বাদী হয়ে সালাম হাওলাদারসহ অজ্ঞাত ৫ জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। পরে আসামি সালাম হাওলাদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Shariatpur-1

মামলার বাদী সোহেল মৃধা (৩৫) বলেন, আমার ভাই সোহাগ মৃধা ও সালাম হাওলাদার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সালাম হাওলাদার সোহাগকে ডেকে নেয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে সালাম হাওলাদার ও তার লোকেরা।
নিহতের মা মাসুদা বেগম (৭০) মানববন্ধনে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে সালামরা হত্যা করেছে। আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে। আমি ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

স্ত্রী নাসিমা বেগম (২৩) বলেন, আমার সোহানা নামে চার বছরের একটি মেয়ে আছে। সে কাকে বাবা বলে ডাকবে? আমার মেয়েকে যারা এতিম করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) নড়িয়া থানার এসআই আবুল কালাম জানান, আসামি সালামকে আদালত থেকে দুইবার রিমান্ডে আনা হয়। তিনি কৌশলে হত্যার কথা এড়িয়ে গেছেন। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মো. ছগির হোসেন/এমএমজেড/পিআর