‘সেন্টমার্টিনের সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবিই যথেষ্ট’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একটি অংশ। সে হিসেবেই এখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই দ্বীপে বিজিবির যে জনবল রয়েছে তা সীমান্ত নিরাপত্তায় যথেষ্ট। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে সেন্টমার্টিন অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ ও মানবপাচার রোধসহ অপরাধ দমনে সফলতা আনবে।

মঙ্গলবার বিকেলে সেন্টমার্টিন পরিদর্শন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এর আগে দুপুর দেড়টায় হেলিকপ্টারযোগে তিনি সেন্টমার্টিনে অবতরণ করেন। এ সময় টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান ও অপস অফিসার মেজর রুবাইয়াত বিজিবি মহাপরিচালককে অভ্যর্থনা জানান।

BGB-DG

এরপর সরাসরি সেন্টমার্টিনের কোনাপাড়ার সংলগ্ন বিজিবির অস্থায়ী বিওপি পরিদর্শন করেন বিজিবির মহাপরিচালক। পরে তিনি বিওপিটির স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গা ঘুরে দেখেন। এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নতুন স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি দ্বীপ ত্যাগ করেন।

সেন্টমার্টিনে দীর্ঘ ২২ বছর পর নতুন করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং বিওপি প্রতিষ্ঠার পর এটি বিজিবির কোনো মহাপরিচালকের প্রথম সফর। এর আগে দ্বীপটিতে বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও কোস্টগার্ড
নিয়োজিত করার পর বিজিবি সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করেছিল মিয়ানমার। মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে তাদের দেশের মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। ওই বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করে এর প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর মিয়ানমার মানচিত্র থেকে সেটি পরিবর্তন করে।

BGB-DG-(3).jpg

চলতি বছর ৭ এপ্রিল থেকে সেন্টমার্টিনে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এর আগে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে তৎকালীন বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) মোতায়েন ছিল।

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন সৃষ্টি থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অন্তর্গত। ব্রিটিশ শাসনাধীন ১৯৩৭ সালে যখন বার্মা ও ভারত ভাগ হয় তখন সেন্টমার্টিন ভারতে পড়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় সেন্টমার্টিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশের অন্তর্গত হয়। ১৯৭৪ সালে সেন্টমার্টিনকে বাংলাদেশের অংশ ধরে নিয়েই মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়। ১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) মোতায়েন ছিল। এরপর থেকে সেন্টমার্টিনে বিজিবির কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

সায়ীদ আলমগীর/এমবিআর/এমএস