এমদাদ হোসেনের কবিতা

প্রেমিকার চেয়ে নিজেকে ভালোবাসাই ভালো এবং অন্যান্য

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০০ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২৬
ফাইল ছবি

প্রেমিকার চেয়ে নিজেকে ভালোবাসাই ভালো

তুমিও কি আজকাল একা একা থাকো? নাকি ভালোবাসা তোমাকেও ডাকে—আসো, পাশে বসো। দু’পেয়ালা চা খাই, গল্প করি। চোখের ভাষা পড়ি, হাতে হাত রেখে চলে যাই দূরের কোনো দেশে। না হয় চলো পাখি হয়ে ডানা মেলে উড়ে যাই। চলো পাড়ি জমাই প্রেমের শহরে। লাল-নীল সংসার করি, চোখে চোখ রাখি, ঠোঁট জুড়িয়ে চুমু খাই। আত্মা আত্মার সাথে মিশে যাক। হৃদয় বলুক হৃদয়কে ‘আমরা অভিন্ন’।

তবে শোনো, ভালোবাসা ডাকলে যেয়ো না, ভালোবাসা এইসব দেবে ঠিক, এর চেয়ে বেশি নিয়ে নেবে। একবার বিচ্ছেদ হলে পাওয়ার চেয়ে দ্বিগুণ যন্ত্রণা দিয়ে দেবে; তোমাকে দেবে চোখের জল, যন্ত্রণা আর দেবে মৃত্যুর মতো বেদনা।

তাই তুমি একা থেকো আর হাঁটতে শিখে যাও প্রেমহীন। শহরের পথে চলতে চলতে নিজেকে গুছিয়ে নাও, শির উঁচিয়ে পৃথিবীকে বলে দাও—প্রেমিকার চেয়ে নিজেকে ভালোবাসাই ভালো।

****

বনচারী মেয়ে

কোথায় থাকো তুমি বনচারী মেয়ে? বনে বনে খুঁজে ফিরি তোমাকে, খুঁজে ফিরি পত্র-পুষ্প-বৃক্ষে পুচ্ছ নাড়া বিহঙ্গের দলে, প্রজাপতির মিছিলে।

কোথায় থাকো তুমি? সমুদ্রের কাছাকাছি? তোমায় খুঁজে ফিরি সমুদ্রতীরে, জোয়ার-ভাটায়, সমুদ্রের কাকচক্ষু জলে, শামুকের কাছাকাছি আছ কি বসে?

কোথায় থাকো তুমি? তুমি কি আকাশে থাকো? তবে তুমি কি আকাশিনী? খুঁজে ফিরি তোমাকে আকাশের কাছাকাছি মেঘে মেঘে মেঘমালায়; খুঁজে ফিরি তোমাকে রংধনুর সাত রং কারুকাজে। তুমি কি মেঘের মেয়ে?

কোথায় থাকো তুমি? তুমি কি দূর কোনো দেশ? মরুভূমি নাকি জেরুজালেম? নাকি আরও দূর সাইবেরিয়া, প্রাচীনতম কোনো শহরে? নাকি চৈনিক সভ্যতার মতো কোনো সভ্যতায়?

কোথায় থাকো তুমি? তুমি কি মিশরের পিরামিড? অমীমাংসিত রহস্যের বেড়াজাল নাকি পৌরাণিক কোনো আত্মা? কোনো দেবী নাকি গ্রিক মিথোলজির কোনো বই? কোথায় থাকো তুমি? তুমি কি ইতিহাসের অন্তর থেকে জেগে ওঠা কোনো যুদ্ধ?

****

আদি কলকাতা

তেমন কিছুই চাইনি, চেয়েছিলাম তোমাকে, শুধুই তোমাকে।

চেয়েছিলাম পুরোনো শহর, ধুলো-জমা রাস্তায় হেঁটে হেঁটে কলকাতার কোলাহল ভাঙা দৃশ্যের ভেতর তোমাকে দেখবো। ভিক্টরিয়ার হৃদয়ভূমিতে দাঁড়িয়ে গল্প করতে করতে দেখব শীত-নামা সন্ধ্যায় হাওয়ারা কেমন তোমার চুলে দোল খেতে খেতে চলে যায় ধর্মতলার দিকে। তারা মিছিল করে গঙ্গার জলের স্রোতে, কূলে কিনারে, দূরের ডিঙি নৌকার গলুইয়ের ওপর মিছিলে মিলে।

তেমন কিছুই চাইনি, চেয়েছিলাম তোমাকে, শুধুই তোমাকে। চেয়েছিলাম কুমোরটুলি ঘাটে বসে চোখ মেলে দিয়ে গঙ্গার গল্প দেখবো, হাতে হাত রেখে আমাদের গোপন কথার আলাপ, দু’পেয়ালা চা। কাঁধে মাথা রেখে তোমার চুল থেকে ভেসে আসা অতি পুরাতন প্রেমময় গন্ধের সুবাস নেবো; আর তুমি জানতে চাইবে সেই আটপৌরে প্রশ্নের উত্তর।

চেয়েছিলাম একদিন কলেজ স্ট্রিট যাই তোমার সাথে। দুষ্প্রাপ্য কিছু লাল-নীল মলাটের অতি পুরাতন বই সংগ্রহ করি, তারপর আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল শাড়ির দোকানের ঠিক উল্টো দিকে ট্রামলাইন ধরে হেঁটে যাবো, দেখবো একেকটি ভীষণ মানুষ, তাদের বিষাদের গল্প।

চেয়েছিলাম দু’পেয়ালা কফির সাথে হাতে হাত রেখে আমরা হারিয়ে যাবো, মান্না দের ‘কফি হাউজ’ গানের ভেতর।

প্রিন্সেপ ঘাটে যাই, প্রেমের আলাপ করি সন্ধ্যা নামা সময়ে নৌকায় ভেসে যেতে যেতে রক্তিম আভা ছড়ানো আকাশ দেখব, আর লগ্ন শেষে পাখিদের নীড়ে ফেরা দেখব।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।