আবরার হত্যা : এজাহারে নাম না থাকলেও গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের রাফাত
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সামছুল আরেফিন রাফাতের বাড়ি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জে। মামলার এজাহারে বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীর নাম না থাকলেও তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন হিসেবে গত ৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর জিগাতলা এলাকা থকে তাকেসহ তিজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন ৯ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাফাতের বাড়ি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ ১নং সড়কের হিমা ভিলা। তার বাবা ড. আব্দুল হমিদ দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রফেসর ও মা শওকত আরা নাজনীন সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট রাফাত।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে রাফাতের বাড়িতে গেলে কথা হয় রাফাতের বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে।
এ সময় রাফাতের বাবা প্রফেসর ড. অব্দুল হামিদ বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা জীবনে দীর্ঘসময় অনুষদের ডিন ও বিভিন্ন ছাত্র হলেরে প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেখেছি. নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের অনেককেই জোর করে রাজনীতি করতে বাধ্য করা হতো। রাজনীতি না করলে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হতো। বাধ্য হয়ে তাদের রাজনীতি করতে হতো। আমার ছেলে বেশ কয়েকবার আমাকে বলেছে, ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের কমান্ড না মানলে পড়াশোনা করা খুবই মুশকিল। তবে কী সমস্যা তখন সে আমাদের বলেনি, আমরাও বিষয়গুলো শুনতে বা জানতে চাইনি।
তিনি দাবি করে বলেন, আমার ছেলে একদম নিরীহ ছেলে। সে সিরাজগঞ্জে থাকাকালীনও কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কখনোই কোনো মিছিল-মিটিংয়ে যায়নি।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার বিচার সম্পর্কে তিনি বলেন, যারা এর মূল হোতা তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে বিচারের নামে সাধারণ ও নিরীহ ছাত্রদের যেন জড়ানো না হয়, সেটিই সরকারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কামনা করি।
রাফাতের মা শওকত আরা নাজনীন বলেন, আমার ছোট ছেলে সামছুল আরেফিন রাফাত খুবই শান্ত প্রকৃতির। কোনোদিন কারও সঙ্গে মারামারি তো দূরের কথা, উচ্চস্বরে কারো সঙ্গে কথা বলেছে বলে আমার জানা নেই। ছোট থেকে বড় হয়েছে কখনোই তাকে নিয়ে কোনো বিচার বা গ্রাম্য শালিসের মুখোমুখি হতে হয়নি পরিবারকে। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সে কীভাবে জড়িয়ে গেলো সেটি আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের একটাই কথা- আমার ছেলে কখনোই এমন কাজ করতে পারে না।
রাফাতের বোন ডা. হিমা বিনতে হামিদ ও বড় ভাই শাহরিয়ার আরেফিন রিফাত দাবি করেন, রাফাত এমন কাজ কখনোই করতে পারে না। ছোট থেকে বড় হয়েছে সে আমাদের সামনে মুখ তুলে কথা বলার সাহস পায়নি। সে গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়ে ঝামেলা হতে পারে ভেবে ভয়ে ঘর থেকেই বাইরে বেরই হয়নি।
রাফাতের প্রতিবেশী ব্যবসায়ী শামীম হোসেন ও মুক্তা বেগম বলেন, রাফাতকে আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি পড়াশোনার প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল। তাকে কখনোই রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠতে দেখেনি। ছোটবেলা থেকেই রাফাতকে আমরা ভালো ছাত্র হিসেবে জেনেছি।
এ বিষয়ে রাফাতের শিক্ষক সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক উমর ফারুক বলেন, সামছুল আরেফিন রাফাত আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকেই এসএসসি পাশ করেছিলেন। ওই সময়ে ক্লাসের মধ্যে রাফাত ছিল অন্যতম। এখানে অধ্যয়ন শেষে চলে যাওয়ার পর তার সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না। তবে সম্প্রতি বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সংবাদে রাফাতের সম্পৃক্ত থাকার কথা জেনেছি।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমবিআর/পিআর