স্কুলের ১০ হাত দূরে সিলিন্ডারের ডিপো, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
প্রতিদিন বই ভর্তি ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে শিশুরা। কিন্তু ক্লাসে পাঠে মন বসে না তাদের। ক্লাসরুমে থাকা ব্লাকবোর্ডের চেয়ে স্কুলের পাশে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডার রাখার গুদাম ঘরের দিকে খেয়াল বেশি তাদের।
রাস্তা দিয়ে বড় কোনো গাড়ির একটু শব্দেও তাদের বুক কেঁপে ওঠে। এই বুঝি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলো। পুরো সময় শিক্ষকরা থাকেন আতঙ্কে, আর অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায়।
এই অবস্থা ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভূটিয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এর পাশেই একটি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে অধিকাংশ সময় কয়েক হাজার গ্যাস সিলিন্ডার মজুত থাকে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ভূটিয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ও গ্যাসসিলিন্ডারের গুদামের দূরত্ব মাত্র ১০ হাত। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে। এরই মধ্যে ছুটির ঘণ্টা পড়তেই তারা বাড়ির উদ্দেশে ছুটতে শুরু করেছে। প্রায় সবাইকে বিদ্যালয় থেকে পার্শ্ববর্তী গ্যাসসিলিন্ডারের গুদামের প্রাচীর ঘেঁষে ছোট রাস্তা ধরে বের হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক ট্রাক ভর্তি গ্যাসসিলিন্ডার এখানে এনে জমা করা হয়। সামান্য অসর্তকতায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ। এতে যেতে যেতে পারে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আশপাশ এলাকার মানুষের প্রাণ।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, স্কুলটি অনেক বছরের। তারা প্রশ্ন করেন এর পাশে কীভাবে গ্যাসসিলিন্ডারের গুদাম হলো। তারা অভিযোগ করেন, গুদামটি এখান থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেই ভয় হয়। যে কোনো সময় বিস্ফোরণ হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই ঝুঁকির মধ্যে থেকেই স্কুলের বাচ্চাদের পড়ালেখা করাতে হচ্ছে।
ডিপোর ব্যবস্থাপক মতিয়ার রহমান মোবাইলফোনে জানান, এখানে তারা অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার রাখেন। তাছাড়া এগুলো সুন্দর করে প্যাকেট করা থাকে। দুর্ঘটনার কোনো কারণ নেই।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দিলীপ কুমার সরকার জানান, এখানে গ্যাস ভরা হয় না। শুধু সিলিন্ডার রাখা হয়। পরে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এতে খুব বেশি ঝুকি নেই।
এ বিষয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি বিষয়টি বিস্তারিত জানেন না। তবে এটা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় লোকজন কেন এটার প্রতিবাদ করেন না তা তিনি জানেন না।, তবে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।
আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এমএমজেড/পিআর