দিনাজপুরে হাতের মাধ্যমে হার্টে সবচেয়ে বড় রিং প্রতিস্থাপনে সফলতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও বাংলাদেশ রেডিয়াল ইন্টারভেশন কোর্সের (বিআরআইসি) উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী কমপ্লেক্স ট্রান্সরেডিয়াল ইন্টারভেশন ও পিটিএমসির লাইভ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।

এ ওয়ার্কশপের অধীনে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে ৫টি সিটিও, ২টি ক্যালসিফাইড ও ২টি সিম্পল রিশনসহ মোট ৯ জন রোগীর হাতের রক্তনালীর মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডিসটাল রেডিয়াল ও আলনার রুট ব্যবহার করে হৃদপৃণ্ডের ধমনীতে সরকার নির্ধারিত স্বল্পমূল্যে রিং (স্টেন্ট) প্রতিস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ২ জন রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ সরু হার্টভাল্ব (মাইট্রাল স্টেনোসিস) রোগীর পিটিএমসি প্রসিডিউরের মাধ্যমে সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়।

দিনাজপুর পর্যটন মটেল ও দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ ও ৯ নভেম্বর শুক্র ও শনিবার দুই দিন ব্যাপী এ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে লাইভ ওয়ার্কশপের মাধ্যমে এতো রোগীর ট্রান্সরেডিয়াল রুটে স্টেন্ট সফল ভাবে প্রতিস্থাপন এটাই প্রথম।

দুইদিন ব্যাপী ওয়ার্কশপে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরেণ্য ইন্টারভেশনাল কার্ডিওলজিস্ট, ব্রিক (বিআরআইসি) এর কোর্স ডিরেক্টর, বিএসসিআই এর সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন, ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসাপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সিএম শাহীন কবির ও এনআইসিভিডির ইন্টারভেশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. মো. সাকীফ শাহরিয়ার।

Dinajpur-Treatment

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. এএফ খবির উদ্দিন আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহরিয়ার কবীর ও ডা. মো. বসির উদ্দিনসহ হৃদরোগ বিভাগের পুরো টিম সহযোগিতায় ছিলেন।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে উক্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ডা. নাসিমা সুলতানা। এ সময় তিনি সন্তুটি প্রকাশ করে কার্ডিওলজি বিভাগের কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, পায়ের মাধ্যমে রিং (স্টেন্ট) প্রতিস্থাপন করলে রোগীর প্রচণ্ড কষ্ট হয়। দুই তিন দিন হাটতে পারে না । অনেক সময় রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু হাতের মাধ্যমে রিং (স্টেন্ট) প্রতিস্থাপন করা হলে রোগীর কোনো কষ্ট হয় না। জটিলতা নেই বললেই চলে। রোগীর ঝুঁকি কম থাকে।

লাইভ ওয়ার্কশপের মাধ্যমে এতো রোগীর ট্রান্সরেডিয়াল রুটে স্টেন্ট ওয়ার্কশপের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহরিয়ার কবীর বলেন, আমি আগেও হাতের মাধ্যমে রিং (স্টেন্ট) প্রতিস্থাপন করেছি। জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে এটা করার সাহস পেতাম না। কিন্তু এ ওয়ার্কশপে যে অভিজ্ঞতা অর্জন হলো তা দিয়ে আমি এখন অনেক ঝুকিপূর্ণ রোগীরও হাতের মাধ্যমে রিং (স্টেন্ট) প্রতিস্থাপন করতে পারবো। যাতে করে রোগীর কষ্টও কম হবে, সময় কম লাগবে ও রোগীর অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/পিআর