রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতের ঘটনায় আরও দুটি তদন্ত কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আন্তঃনগর রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত ও ইঞ্জিনসহ চারটি বগিতে আগুন লাগার ঘটনায় আরও দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। এ দুর্ঘটনার পেছনে লাইনম্যানের কোনো গাফলাতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে বিকেল ৫টার পর ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৪টি বগিতে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত করে কেউ বলতে না পারলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্টেশন মাস্টার।

তবে আরেকটি সূত্র বলছে, স্টেশন মাস্টারের ভুল সিগন্যালের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি (স্টেশন মাস্টার) মিটারগ্রেজ ট্রেনের সিগন্যাল দিয়ে দেন ব্রডগেজের লাইনে। ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চালক, লোকোমাস্টারসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ৪০০ থেকে ৫০০ গজ রেললাইন উপড়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ। উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমবিআর/পিআর