আজও বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৫ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালেও খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, যশোর, রাজবাড়ী, নওগাঁ, শেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে কিছু কিছু জেলায় সীমিত আকারে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। জাগো নিউজের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা : নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে খুলনায় চতুর্থদিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালে বাস ছাড়বে এমন খবরে খুলনার সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রয়্যাল ও শিববাড়ির মোড়ে শতশত যাত্রীরা দূর-দূরান্তে যাত্রার উদ্দেশ্যে আসলেও বাস না ছাড়ায় তাদের যাত্রা ভঙ্গ হয়েছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, নতুন সড়ক আইনের কিছু ধারায় মালিক ও চালকদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ কারণে চালক ও মালিকরা ভয়ে গাড়ি বের করছেন না।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা থেকেও বৃহস্পতিবার সকালে কোনো রুটে বাস চলাচল করেনি। সাতক্ষীরা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, নতুন আইন সংশোধনের পর বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ কর দেয়। সরকারের আশ্বাস পেলেই রাস্তায় নামবে শ্রমিকরা। কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরকারের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।

আলোচনার পরও এখনো কেন বাস চলাচল শুরু হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাস মালিকরা অনুমতি দিলেই শ্রমিকরা বাস চালানো শুরু করবে। আপনারা মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল করিম সাবু বলেন, মালিকরা বাস চালাতে নিষেধ করেনি। শ্রমিকরাই বাস চালানো বন্ধ করেছেন। এছাড়া ২১ ও ২২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মিটিং রয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভবত শ্রমিকরা বাস চালাবে না।

khulna

নড়াইল : নড়াইলে চতুর্থ দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে নড়াইলের কোনো বাস ছাড়েনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, বাস ধর্মঘট অব্যাহত আছে। আমরা এখনো ঢাকায় আছি। বেলা ১১টায় এ বিষয়ে বৈঠকে বসব। পরে সিদ্ধান্ত জানাবো।

যশোর : বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরও বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) যশোরাঞ্চলে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। এনিয়ে টানা পাঁচ দিন যশোরাঞ্চলের ১৮টি রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার রাতে মন্ত্রীর ঘোষণায় আশ্বস্ত হয়ে যারা সকালে বাস টার্মিনালে এসেছিলেন তাদেরকে হতাশ হতে হয়েছে এবং দুর্ভোগ সঙ্গী করেই গন্তব্যের দিকে যেতে হয়েছে।

পরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীরা। পাসপোর্ট যাত্রীদের অনেকেই আটকে পড়ে আছেন বেনাপোলে।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ বাচ্চু বলেন, যশোরের বিভিন্ন রুটের শ্রমিকরা কাজে আসেনি। তাই গাড়ি চলছে না। আজ ঢাকায় সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শ্রমিকরা কাজে ফিরতে পারেন।

রাজবাড়ী : ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও রাজবাড়ীতে চলছে না কোন ধরনের যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে জেলার সড়কগুলোতে কোনো বাস-ট্রাকের দেখা মেলেনি। যাত্রীবাহী বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পড়েছেন যাত্রীরা।

bus

নওগাঁ : নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে নওগাঁতে বাস বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) নওগাঁ থেকে কোনো বাস গন্তব্যে ছেড়ে যায়নি। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিকল্প হিসেবে জরুরি প্রয়োজনে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

চালক ও শ্রমিকরা বলছেন- নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন ও মহাসড়ক থেকে থ্রি-হুইলারের মত যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। জেলা শ্রমিক নেতাদের নির্দেশ পেলে তারা গাড়ি চালাতে যাবেন।

শেরপুর : চতুর্থ দিনের মতো বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) শেরপুরে দূরপাল্লাসহ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকও চলাচল করছে না।

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. হামিদুর রহমান বলেন, আমরা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গাড়ি চালানোর জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকরা ভয়ে গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। দুপুরে ঢাকায় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বর্ধিত সভা রয়েছে। সেই সভা থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা : নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় চতুর্থ দিনের মতো পরিবহন ধর্মঘট চলছে। মধ্যরাতে ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনো পণ্যবাহী পরিবহন ছেড়ে যায়নি। দূরপাল্লা ও আন্তজেলা রুটে সব ধরণের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহীতে এখনো স্বাভাবিক হয়নি যাত্রীবাহী বাস চলাচল। আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ধীরে ধীরে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এলেও দূরপাল্লা রুটে স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, দূরপাল্লা রুটের কিছু বাস রাজশাহী থেকে ছেড়ে গেছে। কিন্তু জেলার বাইরে গিয়ে আটকা পড়ছে। তবুও কিছু কিছু বাস চলাচল করছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজশাহী- চাঁপাইনবাবগঞ্জে ও রাজশাহী-নওগাঁ রুটে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করছে। অভ্যন্তরীণ রুটেও বাড়ছে বাসের সংখ্যা।

বগুড়া : বগুড়াতে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে এখনো বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সীমিত আকারে কিছু বাস চলছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুরেও বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে সীমিত আকারে বাস চলাচল শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে চতুর্থদিনের মত চলছে পরিবহন ধর্মঘট। আজও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু (পূর্ব) মহাসড়কে অল্পসংখ্যক ট্রাক-বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। পরিবহন ধর্মঘটের ফলে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন জানান, আজও টাঙ্গাইলে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। বিকেলের দিকে ঢাকায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকের পর পরিবহন চলবে কি-না সে সিদ্ধান্ত ঠিক হবে।

আরএআর/এমএমজেড/জেআইএম