শপথ ছিল দেশ স্বাধীনের, ৯ মাস মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাইনি

আজিজুল সঞ্চয়
আজিজুল সঞ্চয় আজিজুল সঞ্চয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছেন কমান্ডার হারুণ-অর-রশীদ

>> মা-বাবার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যান

>> কলেজছাত্র থাকাবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে

>> মাত্র ১৬ বছর বয়সে হয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার

>> তার নেতৃত্বে ৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন

>> ৩নং সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায় অনেকগুলো যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন

মা-বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনে মুক্তিকামী হয়ে ওঠেন মো. হারুণ-অর-রশীদ। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আর মা-বাবার আগ্রহে কলেজছাত্র থাকাবস্থায় হারুণ-অর-রশীদ ঝাঁপিয়ে পড়েন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে হয়ে যান টিম কমান্ডার। তার নেতৃত্বে ৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন ৩নং সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার।

১৯৫৪ সালের ১৩ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দক্ষিণ পৈরতলা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন হারুণ-অর-রশীদ। তার বাবা আব্দুল হামিদ ছিলেন একজন সবজি ব্যবসায়ী, মা নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ১৯৭০ সালে অন্নদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাবিদ্যালয়ে (বর্তমান সরকারি কলেজ) ভর্তি হন।

রণাঙ্গনের এই যোদ্ধা কীভাবে পাকিস্তান ক্যাডেট কোরের (পিসিসি) প্রশিক্ষণ মাঠ থেকে যুদ্ধের মাঠে গেলেন সেই গল্প জাগো নিউজের পাঠকদের শোনাবেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে হারুণ-অর-রশীদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশপাশে কোথাও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনসভা থাকলে সেখানে চলে যেতাম বন্ধুদের নিয়ে। ’৭০ এর নির্বাচনের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের তৎকালীন রিপাবলিক স্কয়ারে (বর্তমান লোকনাথ দিঘির ময়দান) জনসভায় এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জনসভায় গিয়ে তার ভাষণ শুনেছিলাম।

১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর পাকিস্তান ক্যাডেট কোরে (পিসিসি) নিজের নাম নিবন্ধন করে প্রশিক্ষণ শুরু করি। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে আমরা কলেজসংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পিসিসির প্রশিক্ষণ করতাম। প্রশিক্ষণে আমরা ৫০-৬০ জন ছিলাম। সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আমাদের প্রশিক্ষণ করাতেন।

শরীর চর্চার পাশাপাশি কাঠের রাইফেল দিয়ে প্রশিক্ষণ করানো হতো আমাদের। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের তৎকালীন ছাত্র সংসদের ভিপি হুমায়ূন কবির আমাদের প্রশিক্ষণ মাঠে এসে প্রশিক্ষককে কিছু একটা বললেন। বলার পর প্রশিক্ষক আমাদের সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করালেন।

এরপর হুমায়ূন ভাই বক্তব্য দিলেন। আমরা জানতাম না ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ চালানোর কথা, হুমায়ূন ভাইয়ের বক্তব্যে আমরা সেটি জানলাম। তখন হুমায়ূন ভাই বললেন আমাদের আর সময় নেই, এখনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা দরকার। আমাদের বলা হলো কারা কারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে তারা এক কদম আগে আসো। আমি এক কদম এগিয়ে দেখি আমার সঙ্গে কেউ নেই।

তখন হুমায়ূন ভাই আমার কাছে এসে কানে কানে বললেন, তুমি যে মুক্তিযুদ্ধে যেতে চাও তোমার মা তো আমাকে দায়ী করবে। আমি তাকে বললাম, আপনাকে দায়ী করবে না, আমি নিজের ইচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে যাব। আবার হুমায়ূন ভাই বক্তব্য রাখলেন। এরপর আরও কয়েকজন আমার সঙ্গে এগিয়ে এলো।

সেদিন ৩০ জনের মতো আমরা মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসলাম। বাকিদের ছুটি দিয়ে আমাদের নিয়ে বসে পরামর্শ করা হলো। এরপর বলা হলো এখন থেকে আর সকালে প্রশিক্ষণ হবে না। রাত ১০টার পর কলেজের দক্ষিণ পাশে মাঠে গেরিলা প্রশিক্ষণ হবে। কিন্তু মাঠের পাশে খ্রিষ্টানদের একটি চার্চে লাগানো বড় বাতির আলোর কারণে আমাদের প্রশিক্ষণে ব্যাঘাত ঘটে। সেজন্য আমরা ঢিল মেরে ওই বাতি ভেঙে ফেলি। এভাবে সেখানে কয়েক দিন আমরা গোপনে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কাঠের রাইফেল দিয়ে শুয়ে, দাঁড়িয়ে এবং এক পা মাটিতে দিয়ে কীভাবে ফায়ার করতে হবে- সেগুলোসহ অনেক ধরনের রণকৌশল আমাদের শেখানো হলো।

তিনি বলেন, একদিন রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হুদা প্রশিক্ষণ মাঠে গিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বললেন। তিনি আমাদের বলেন, কুমিল্লা থেকে সেনা সদস্যরা আসবে, তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিতে হবে। তার কথামতো আমরা শহরের কুরুলিয়া সেতুতে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দিলাম। গেরিলা প্রশিক্ষণ শেষ করে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক (সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ সরকারি অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র নিয়ে আমাদের প্রত্যেককে একটি করে রাইফেল দিলেন।

কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ বিদ্রোহ করে আমাদের প্রত্যেকের নামে একটি করে রাইফেল ইস্যু করেন। আমাকে দেয়া হয়েছিল মার্ক-৪ রাইফেল। এরপর আমাদের মধ্যে ১০ জনকে শহরের ঘাটুরা এলাকার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের অফিসে থাকা একটি টাওয়ার রক্ষার ডিউটি দেয়া হলো। কারণ টাওয়ারটি ধ্বংস করে ফেললে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।

একদিন রাতে আমাদের আবার নির্দেশনা দেয়া হলো শহরের গোকর্ণ ঘাট এলাকায় নদীপথে পাকবাহিনীর সৈন্যদের আগমন ঠেকাতে হবে। এরপর আমরা চলে গেলাম সেখানে। আমাদের সঙ্গে আনসার বাহিনী ও মোজাহিদ বাহিনীর সদস্যরাও যোগ দেন। কিন্তু পাকসৈন্যরা আর নদীপথে আসেনি। পাকবাহিনী বিমান থেকে মেশিনগানের ফায়ার করতে থাকে। আর হেলিকপ্টার দিয়ে সৈন্য নামাতে থাকে।

Harun-Or-Rashid--2

কমান্ডার হারুণ-অর-রশীদের নেতৃত্বাধীন ৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপের ২৫ জন

এর মধ্যে ভারত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গুলির প্যাকেট এসেছে। সেই গুলির প্যাকেট বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান আমিসহ চারজনকে দায়িত্ব দিলেন। গোকর্ণ ঘাটে করা আমাদের ক্যাম্প থেকে গুলি নিয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দিলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তখনও সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়নি।

ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান আমাদের নির্দেশ দিলেন পৈরতলা রেলগেটে আসার জন্য। আমরা রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটা শুরু করি। আকাশে পাকবাহিনীর বিমান দেখলেই আমরা মরা গাছের মতো হয়ে যেতাম। রাইফেলটি বুকে ধরে মাথা নিচু করে গাছ হয়ে যেতাম। যাতে উপর থেকে নিচে তাকালে যেন দেখে এটা মরা গাছ।

এরপর ১৩ এপ্রিল আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়তে হয়। আমরা প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের ত্রিপুরায় চলে যাই। একসঙ্গে ৮৫ জন ত্রিপুরায় গেছি। প্রথমে গোকুলনগরের মেঘনা ক্যাম্পে ও পরে বাঘমারা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হয় আমাদের। সেখানে ৩৭ জন করে একটি স্কোয়াড গঠন করা হয়। পিসিসির প্রশিক্ষণ এবং গেরিলা প্রশিক্ষণ করার কারণে আমাকে ৭নং স্কোয়াডের লিডার করা হয়। কিন্তু আমি বয়সে ছোট হওয়ায় আমার স্কোয়াডের তিনজন সদস্য লিডার হিসেবে আমাকে মানতে পারেনি। তারা প্রশিক্ষক মি. লেলেঙ্গার কাছে জানায়, আমার নেতৃত্ব তারা মানবে না।

এরপর আমাদের চারজনের মধ্যে ফায়ারিং প্রতিযোগিতা করা হয়। আমি ভালো করায় আমাকে লিডার করা হয়। সেখানে আমরা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নেই। এরপর আমাদের বাড়ি অনুযায়ী সেক্টরে ভাগ করা হলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আমার বাড়ি হওয়ায় আমাকে ৩নং সেক্টরে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। সেক্টর হেডকোয়ার্টার হেজামারা থেকে ৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি গ্রুপের কমান্ডার নিযুক্ত করে আমাদের পাঠানো হয় মনতলা ক্যাম্পে।

ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম এ মতিনের অধীনে সীমান্তে সবচেয়ে বড় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেই আমরা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমাদের নিয়ে পরামর্শ করা হতো কীভাবে বাংলাদেশের ভেতরে এসে পাকবাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমণ করা হবে। আমরা বাংলাদেশে ঢুকে পাকবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আবার ভারতে ঢুকে যেতাম।

৩০ নভেম্বর দুপুরে খাবার পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ত্রিপুরার উষা বাজার ক্যাম্পে। ওই দিনই সেখান থেকে আমাদের কয়েকজন গ্রুপ কমান্ডারকে নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলা বিমানবন্দরে। এরপর আমাদের বলা হলো, রাত ২টা থেকে যুদ্ধ শুরু হবে। আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে দলবলসহ এসেছি। কিন্তু রাত ২টা বাজার আগেই কেউ একজনের রাইফেল থেকে ভুলবশত ফায়ারিং হয়। ফায়ারিংয়ের শব্দ শুনে পাক সৈন্যরা গুলি চালাতে থাকে। শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ।

মুক্তিযোদ্ধা হারুণ-অর-রশীদ বলেন, সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। আমরা সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আখাউড়ার দুর্গাপুর, চাঁনপুর, আজমপুর ও রাজাপুর সীমান্তে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমার দল সম্মুখযুদ্ধ করে। এভাবে ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর আমাদের কাছে নির্দেশ আসে ফায়ারিং বন্ধের জন্য। কারণ জানতে চাইলে কমান্ডার বলেন, ভারত আমাদের এখনও স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বীকৃতি পেলেই আমরা আবার যুদ্ধ শুরু করব। ওই দিন রাত ১২টার পর আকাশবাণী কলকাতা রেডিওর প্রথম সংবাদে বলা হয়, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান। এর কিছুকক্ষণ পরই বলা হয় ভারত স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

দুই দেশের স্বীকৃতি পেয়ে আবার আমাদের নির্দেশনা দেয়া হলো ফায়ারিং শুরু করার। ফায়ারিং করতে করতে আমরা লক্ষ্য করলাম পাক সৈন্যরা গুলি চালাচ্ছে না। আমরা মনে করলাম হয়তো পাক সৈন্যরা সবাই মারা গেছে, নয়তো তারা পালিয়ে গেছে। তবে এটি যুদ্ধের রণকৌশল কি-না সেটি দেখার জন্য ৬ ডিসেম্বর সকালে মিত্র বাহিনী সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মিত্র বাহিনীর একজন একটি গাছের ওপরে অবজারভেশন পোস্ট (ওপি) দেখে ফায়ার করেন। ওই দিনই আখাউড়া শত্রুমুক্ত হয়।

এখানের যুদ্ধে মো. রফিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও আব্দুল আলিম নামে আমাদের গ্রুপের তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধের পর আমরা চলে গেলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুর ক্যাম্পে। ক্যাম্পে একদিন হুমায়ূন ভাই খবর নিয়ে এলেন কেউ একজন আমার বাবা-মাকে বলেছে, আমি যুদ্ধে মারা গেছি। সেই খবর শুনে আমার বাবা-মা মরার মতো অবস্থা।

আমি ক্যাম্প কামান্ডার থেকে একটি নাইট পাস নিয়ে বাড়ি গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করি। আমাদের শপথ ছিল দেশ স্বাধীনের। তাই যুদ্ধের নয় মাস মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতেও যাইনি আমি। আখাউড়া শত্রুমুক্ত হয়ে যাওয়ার পরই বাড়ি যাই।

পাক সৈন্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়ার আগে গণহত্যা চালায়। তারা বিনাযুদ্ধে ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ত্যাগ করায় শত্রুমুক্ত হয়। এরপর আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢুকি। তবে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা ওড়াতে পারিনি। মুক্তি বাহিনীর পূর্বাঞ্চল কমিটির চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ওড়ান।

কমান্ডার হারুণ-অর-রশীদ নেতৃত্বাধীন ৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপের সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমিও বাবা-মাকে না জানিয়েই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। গোকুলনগর গিয়ে হারুণ ভাইকে আমি পাই। বাঘমারায় গিয়ে ২১ দিন প্রশিক্ষণের পর প্রথমে সেক্টর হেডকোয়ার্টার হেজামারা, এরপর মনতলা ক্যাম্পে পাঠানো হয় আমাদের। সেখান থেকে আমাকে হারুণ ভাইয়ের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি হারুণ ভাইয়ের অনেক পরে মুক্তিযুদ্ধে গেছি। ৩০ নভেম্বর রাত থেকেই আখাউড়া সীমান্তে আমরা হারুণ ভাইয়ের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। আমাদের ৭৬ জনের দলের অনেকেই এখন নেই।’

এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]