কবিরাজ হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতাসহ তিন ভাই গ্রেফতার
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কবিরাজ স্বপন মণ্ডলকে (৫০) হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- বদলগাছী থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম সাজু, তার বড় ভাই এসএম মামুনুর রশিদ নাজু ও ছোট ভাই এসএম রজন মাহমুদ।
তাদের বাড়ি বদলগাছী সদরের সরদার পাড়ায়। নিহত স্বপন মণ্ডল উপজেলার দেউলিয়া গ্রামের হঠাৎপাড়ার মৃত সোলায়মান আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে স্বপন পারসিন্দুরপুর গ্রামের বুড়িতলা এলাকায় ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ি নির্মাণকাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় থানা যুবলীগের সহ-সভাপতিসহ কয়েকজন তাকে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেয়। সেই সঙ্গে তাকে মারধর করে জমি থেকে তাড়িয়ে দেন তারা।
জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মেরে ফেলে ঝুলিয়ে রাখা হয়। বাঁশঝাড়ে স্বপনের মরদেহ ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, স্বপন কবিরাজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ওই দিন বিকেলে মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে কথা হলে জমি নিয়ে যে বিরোধ চলছে তা সমাধানের জন্য উপজেলার গোবরচাপা বাজারে আছেন বলে জানান।
তার সঙ্গে যুবলীগের সহ-সভাপতি ও তার দুই ভাই আছে বলেও জানিয়েছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। শুক্রবার জানতে পারি স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। আমার স্বামীকে যুবলীগের সহ-সভাপতি ও তার ভাইয়েরা হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছেন।
বদলগাছী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আব্দুল মালেক বলেন, শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে আটক তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ওসি বলেন, নিহতের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গাছের ডালের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো হলেও হাঁটু ভাজ অবস্থায় দুই পা মাটিতে ছিল। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম