চলে গেলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুর শতবর্ষী মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:৩৬ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২০

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ নুরুল ইসলাম নুরুর শতবর্ষী মা ফুলজান বিবি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন নুরুল ইসলাম নুরু। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া ২২ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম যুদ্ধ চলাকালীন একবার মা-বাবাকে দেখতে এসেছিলেন। এরপর আর মায়ের কোলে ফিরতে পারেননি তিনি। দেশ স্বাধীন হলে অন্য সব মায়ের মতো সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় থাকেন ফুলজান বিবি। কিন্তু মাস পেরিয়ে বছর গেলেও আর ফেরেননি নুরুল ইসলাম।

এরই মধ্যে এই মা খবর পান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন নুরুল ইসলাম। সেই থেকে শুরু হয় তার কান্না। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও কান্না থামেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মা ফুলজানের। বয়স বাড়ায় শতবর্ষী এই মা বিছানায় পড়ে থাকতেন। খাওয়া-দাওয়া গোসল সবকিছুই তাকে বিছানায় করতে হতো।

এদিকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরুর শতবর্ষী মা ফুলজান বিবির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ আমরা সুনামগঞ্জবাসী শোকাহত। আমার অন্তরের ইচ্ছা অপূর্ণ থেকেই গেল। গত ১৩ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রাক্কালে সর্বশেষ সাক্ষাৎকালে কথা দিয়েছিলাম, আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগে গর্বিত মাকে নিয়ে ডলুরা সমাধিসৌধটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ মাতাকে তার গর্বিত সন্তান বীর শহীদ নুরুল ইসলামের সমাধি সদর উপজেলার ডলুরা শহীদ সমাধিসৌধের কাজ শেষে তাকে নিয়ে সন্তানের কবরের পাশে নিতে পারলাম না! মা তুমি আমাকে ক্ষমা করো।’

এ সময় জেলা প্রশাসক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মায়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

মোসাইদ রাহাত/এমএসএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।