জাহিদকে কুপিয়ে হত্যার পরও রাগ কমেনি মিনহাজের, তুলে ফেলে বাম চোখ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২০

নাটোরে ক্যারাম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং মনের ভেতর পুষে রাখা ক্ষোভ থেকেই হত্যা করা হয় রাজশাহী সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম ওরফে জাহিদকে। হত্যাকাণ্ডের চারদিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন করে শনিবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এ তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সরকারি এনএস কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অর্নাস প্রথম বর্ষের ছাত্র মিনহাজ হোসেনকে (২০) গ্রেফতার করার পর এ রহস্য বেরিয়ে আসে।

ইতোমধ্যে মিনহাজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত দা। মিনহাজ হোসেন সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। তিনি নানা বাড়ি নবীন কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে পড়াশুনা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, সদর উপজেলার হালসা বাজারে একদিন ভ্যানে উঠা নিয়ে মিনহাজ হোসেনকে দুটি থাপ্পর মারে কামরুল ইসলাম ওরফে জাহিদ। এরপর থেকেই মনের ভেতর ক্ষোভ বাড়তে থাকে মিনহাজের। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জাহিদকে প্রেমিকা সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় মিনহাজ। সেখানে মিনহাজ তার পকেট থাকা দা বের করে জাহিদের ঘাড়ে কোপ মারে। এতে জাহিদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মাটিতে পড়ে যায়। ওই অবস্থায় জাহিদকে কুপিয়ে হত্যা করে সে। ক্ষোভে জাহিদের বাম চোখ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তুলে নিয়ে পুকুরে ফেলে মনের ক্ষোভ মিটায় মিনহাজ। এছাড়া লাশ বাঁশ ঝাড়ে ডালপালা দিয়ে ঢেকে লুকিয়ে রাখে। আর জাহিদের মোবাইল নিয়ে গিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ফেরদ দিয়ে আসে মালিকের কাছে।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরেও মিনহাজ ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক গল্প বানিয়ে বিভিন্নজনকে পুলিশের সন্দেহভাজন করে তোলেন। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেটি তদন্ত করছে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সামছুজ্জোহা।

এসময় প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) আসাদুজ্জামান মিয়া, ডিএসবির ডিআইও-১ ইব্রাহিম হোসেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত হাসান, সদর থানা পুলিশের ওসি তদন্ত ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি নাটোর সদর উপজেলার নবীনকৃষ্ণপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে এবং নাটোর শহরে অবস্থিত রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির (আরএসটিইউ) বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র কামরুল ইসলাম জাহিদ নিহত হন। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করাসহ একটি চোখ উপড়ে ফেলানো হয়। পরদিন রাতে বাঁশ ঝাড় থেকে জাহিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।