ভৈরবে প্রতিপক্ষের মারধরে আহত সোহাগের মৃত্যু
মাদক নিয়ে বিবাদের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত সোহাগ মিয়া (৩৬) মারা গেছেন। শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোহাগ কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার মৃত আবদুল খালেকের ছেলে। গত সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাতে এলাকার প্রতিপক্ষরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে লাঠিপেটা করলে গুরুতর আহত হন সোহাগ। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। আহত সোহাগ ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার দুপুরে মারা যান।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সোহাগের মেয়ে সুখী বেগম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি মো. রানা (২৯) ও দীপুকে (৩০)বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করে।
নিহতের মরদেগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যায় বাড়িতে আনা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় তার নামাজে জানাজা শেষে পৌর কবরস্হানে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, নিহত সোহাগ পুলিশের সোর্স হিসেবে এলাকায় কাজ করতেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এতে এলাকার অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার পঞ্চবটি এলাকায় তাকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলে প্রতিবেশীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
নিহতের ভগ্নিপতি আলফাজ মিয়া জানান, কোনো কারণ ছাড়া প্রতিপক্ষরা তাকে লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করেছেন। মাদক নিয়ে বিরোধ, একথা তিনি অস্বীকার করেন।
আলফাজ বলেন, সোহাগ কখনও পুলিশের সোর্স ছিলেন না। মিথ্যা সন্দেহে তাকে মারধর করে মেরে ফেলল। হত্যার ঘটনায় দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন জানান, ঘটনা নিয়ে নিহতের মেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলার পরপরই দুজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
তিনি বলেন, মামলাটি ৩২৬/৩৪ ধারায় করা হলেও এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। আগামীকালই (সোমবার) আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়ে হত্যার ঘটনা জানানো হবে। মামলাটি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি শাহীন।
আসাদুজ্জামান ফারুক/এমএসএইচ