স্কুলব্যাগে চাপাতি-ছুরি, এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৫ ছাত্র বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১২:১২ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

স্কুলব্যাগে চাপাতি, ছুরি ও লোহার পাইপ পাওয়ায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ নবম ও দশম শ্রেণির পাঁচ ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার উদ্দেশে তারা এসব সঙ্গে করে ক্লাস করছিল বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির বৈঠক শেষে পাঁচ ছাত্রকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ও দশম শ্রেণির এক ছাত্রের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্কুলছুটির পর ঝগড়া বাঁধে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ওই দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা একে-ওপরকে হামলার উদ্দেশে তাদের স্কুলব্যাগে ছুরি, চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলম বলেন, ঘটনা টের পেয়ে আমি শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ তল্লাশি করি। তল্লাশিকালে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের স্কুলব্যাগ থেকে একটি ছুরি, এসএসসি পরীক্ষার্থীর স্কুলব্যাগ থেকে একটি লোহার পাইপ, দশম শ্রেণির এক ছাত্রের স্কুলব্যাগ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করি।

তিনি বলেন, এরপর আমরা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম হাফিজ মৃধাকে ঘটনা জানাই। দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বৈঠকে তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার, তাদের ফাঁসিয়ে বহিষ্কার করাতে কেউ তাদের স্কুলব্যাগে এসব অস্ত্র ঢুকিয়ে রেখে শিক্ষকদের খবর দিয়ে তা উদ্ধার করিয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে অবান্তর উল্লেখ করে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম হাফিজ মৃধা বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

সাইফ আমীন/বিএ