গণধর্ষণের পর দুই থানায় গেল কিশোরী, অবশেষে ৯৯৯ নম্বরে ফোন

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক কিশোরীকে (১৩) গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যালের কাছে তাঁতারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরীকে উদ্ধার করে পথচারীরা রেলওয়ে পুলিশের কাছে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন নয় জানিয়ে কিশোরীকে ভৈরব থানা পুলিশের কাছে পাঠায় রেলওয়ে থানা পুলিশ।

এরপর ঘটনাস্থল ও মামলা নিয়ে ভৈরব থানা ও রেলওয়ে থানা পুলিশের মধ্যে ঠেলাঠেলি লেগে যায়। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত চলে দুই থানা পুলিশের ঠেলাঠেলি। এ অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবার। সেই সঙ্গে এ খবর পৌঁছে যায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পর্যন্ত।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে থানায় গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রেলওয়ে ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল্লাহ আল মামুন, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদ, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিজানুর রহমান, রেলওয়ে ঢাকা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার ওমর ফারুক ও ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজোয়ান আহমেদ দীপু। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা নিশ্চিত করেন ঘটনাস্থল ভৈরব রেলওয়ে থানার সীমানায় পড়েছে।

রেলওয়ে ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাস্থল নিয়ে আর বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই। ভৈরবের রেলওয়ে থানার সীমানার মধ্যেই পড়েছে ঘটনাস্থল। তাই রেলওয়ে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ ডিএনএ টেস্ট করা হবে। অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে দুই থানা পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, এখানে ঘটনাস্থল বড় বিষয় নয়। এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এটি বড় বিষয়। কিশোরীর অভিযোগে মামলা নিয়েছে পুলিশ। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে থানায় গেলে ঘটনাস্থল রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন নয় বলে কিশোরীকে ভৈরব থানার পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। ভৈরব থানার পুলিশও ঘটনাস্থল তাদের নয় বলে জানায়। পরে বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই কিশোরীর অভিযোগ, বুধবার রাতে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশাযোগে রেলস্টেশন আসার পথে চার যুবক তাকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে ধর্ষণ করে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। সে তার খালার বাসা টঙ্গীতে থাকত। বুধবার টঙ্গী থেকে ভৈরব হয়ে সুনামগঞ্জের দিরাই যাওয়ার কথা ছিল তার। ধর্ষণ শেষে কয়েক ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে তাকে স্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পথে কয়েকজনকে দেখে চারজন পালিয়ে যায়। পরে পথচারীদের কাছে ঘটনাটি জানায় কিশোরী। পথচারীরা তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে নিয়ে যায়।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/পিআর