লাল হনুমান রক্ষায় র‌্যাব, আসেনি বনবিভাগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১১:১২ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

আশপাশে কোনো বন নেই, আগে কখনো এর অস্তিত্বও ছিল না কিন্তু হঠাৎ সপ্তাহখানেক ধরে ১০-১২টি লাল হনুমানের একটি দল এলাকা দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। শাক সবজি ফলমূল খেয়ে ফেলছে, কখনো মানুষের ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যে যেভাবে পারছে তাদেরকে আক্রমণ করছে।

কেউ ঢিল ছুড়ছে কেউবা লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আপাতত জীবিত থাকলেও যেকোনো সময় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে কারণ, পাশেই রয়েছে হাই ভোল্টেজের বিদ্যুতের তার।

এই হনুমানদের নিয়ে বিরক্ত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকাবাসী। সংবাদকর্মী ও পরিবেশবাদীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় হনুমান রক্ষায় এগিয়ে যায় র‌্যাব কিন্তু ঘটনাস্থলে যায়নি বনবিভাগ।

সরেজমিনে পশ্চিম লইয়ার কুল এলাকায় দেখা গেছে, গাছ-গাছালি ঘেরা এই গ্রামে ১০-১২টি হনুমান একগাছ থেকে অন্যগাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামের একটি তেঁতুল গাছে বসে তেঁতুল খাচ্ছে। শিমগাছের শিম খাচ্ছে। গ্রামবাসী লাঠি গুলতি ইত্যাদি নিয়ে বারবার তাদের তাড়া করছে।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা এলাকাবাসী যেন প্রাণীগুলোর ওপর কোনো ধরনের হামলা না করে বা তাদের বিরক্ত না করে সেজন্য এলাকার লোকজনকে বুঝিয়ে এসেছেন এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতামূলক কথা বলে এসেছে র‌্যাব। স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে এলাবাসীকে এই হনুমান না মারতে প্রচারের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়ছেন র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন শামীম।

jagonews24

আশপাশে এই হনুমান না থাকলেও কীভাবে এসেছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ) মোনায়েম হোসেন জানিয়েছেন, কোথাও থেকে এই প্রাণীগুলো কলা বা অন্যকোনো ফলের গাড়িতে করে চলে আসতে পারে। এখানে পুরো একটি পরিবার চলে আসছে। তারা আজ বিষয়টি জেনেছেন এই ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন।

গ্রামবাসী জানান, দিন-রাত এসব হনুমানের যন্ত্রণায় থাকা দায়। ‘আমার গাছের সব তেঁতুল খেয়ে নিয়েছে। যদি পাখি মারার বন্দুক পাই সব মেরে ফেলতাম’। র‌্যাব গেলে এখনও বনবিভাগের কেউ এখনও এলাকায় যায়নি।

শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, আমি এই এলাকায় গিয়ে দেখে এসেছি। এলাকাটিতে প্রচুর গাছ ও বাঁশ রয়েছে। এদের গায়ের রঙ সোনালী মুখ কালো এদেরকে লাল হনুমান বলা হয়।

গাছের মগডালে থাকায় তাদের ধরা যায়নি। এমনিতে হনুমান মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে এই এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনে প্রাণীগুলো বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ অবস্থায় থাকায় যেকোনো সময় প্রাণীগুলোর উপর হামলা হতে পারে। বনে খাবার নেই তাই খাবারের সন্ধানে তারা লোকালয়ে চলে আসছে।

এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।