পুলিশ চলে যেতেই ধর্ষণ মামলার সাক্ষীকে পেটাল সন্ত্রাসীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

পাবনায় ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন আব্দুল আলিম (৩৫) নামে এক যুবক। সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তবে আহত যুবকের পরিবারের দাবি- পুলিশ তাকে সহযোগিতার জন্য ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের দিয়ে পিটিয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের গাছপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এ ঘটনার সিসি টিভির একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। আহত আব্দুল আলিম পাবনা পৌরসভার নুরপুর এলাকার মৃত ডা. আয়নুল হকের ছেলে।

আহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম একটি ধর্ষণ মামলার সহযোগিতার জন্য আলিমকে গাছপাড়া বাজারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করছিলেন ওই মামলার আসামিপক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনী। আলিম সেখানে পৌঁছালে পুলিশের সামনেই তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে তারা।

ভিডিও ফুটেজে মারপিটের সময় পুলিশের ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও একজন সিপাহীকে বের হয়ে চলে যেতে দেখা যায়। পরে আলিমকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার এক কিশোরী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে আলিমের সহযোগিতার জন্য তার সঙ্গে কথা বলি। আমি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ তার ওপর হামলা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। পরিবারের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম।

পাবনার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ওসি (তদন্ত) কথা বলে ফিরে যাওয়ার সময় একদল সন্ত্রাসী আলিমের ওপর হামলা করে। এটি জানার পর ওসি (তদন্ত) থানায় খবর দিলে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে আলিমকে উদ্ধার করে এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সন্ত্রাসীদের দিয়ে আলিমকে পেটানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের গাছপাড়া এলাকায় এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়।

একে জামান/আরএআর/জেআইএম