মেয়ের স্বীকারোক্তিতে বাবার কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

পঞ্চগড়ে মিথ্যা মামলা করায় কেরামত আলী (৪৫) নামে এক বাদীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মেয়ের স্বীকারোক্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান এ কারাদণ্ডাদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৯ মার্চ জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বিলাসী হাজারীপাড়া এলাকার লস্কর মুন্সির ছেলে কেরামত আলী পাশের গ্রাম প্রধানপাড়ার তার ভায়রা মোশারফ হোসেনের (৪২) নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় কেরামত অভিযোগ করেন- তার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে মোশারফ ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে।

মামলাটি চলাকালে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে ওই মামলার মূল ভিকটিম মেয়েটি আদালতে খালু মোশারফ হোসেন তার কোনো ক্ষতি করেনি বলে স্বীকারোক্তি দেয়। তার বাবা ও খালুর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটি হয়েছে বলেও জানায় মেয়েটি। স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে ওই দিনই অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা করে ব্যবস্থা নিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে নির্দেশ দেন।

এ নিয়ে পরবর্তীতে বাদী কেরামত আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেরামত আলীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

বাদীপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান ও আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মির্জা সারওয়ার হোসেন মামলাটি পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে কেরামত আলীর স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমাদের অভিযোগ সত্য ছিল। কিন্তু মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গ্রামের সবাই মিলে বিষয়টি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেয়। সমঝোতা হলে মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য আদালতে গিয়ে মেয়েটি এই স্বীকারোক্তি দেয়। আপস করতে গিয়ে উল্টো আমার স্বামী সাজা পেল।

সফিকুল আলম/আরএআর/পিআর