চাপা পড়ল সড়ক আইন, ঝিনাইদহে প্রতি সপ্তাহে আট দুর্ঘটনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১১:২৩ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

যানবাহনের দ্রুতগতি আর বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহে অনিরাপদ হয়ে উঠছে সড়ক-মহাসড়ক। এতে প্রতিদিনই ঝরছে তাজা প্রাণ। নির্বিচারে জীবন দিচ্ছে মানুষ।

এ যেন মহাসড়কে মরণব্যাধি। নেই কোনো প্রতিরোধক। ফলে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। সড়ক নিরাপদ করতে গত বছরের নভেম্বর মাসে কার্যকর হয়েছিল নতুন সড়ক পরিবহন আইন। বর্তমানে এর প্রভাব নেই সড়ক-মহাসড়কে। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন চালকরা।

accident

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, জেলায় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ২১টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন আহত ও তিনজন নিহত হন। ডিসেম্বর মাসে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন আহত ও চারজন নিহত হন। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ৩১টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন আহত ও ১১ জন নিহত হন।

সদর হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২২৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, মারা গেছেন আটজন। ডিসেম্বর মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯০ জন, মারা গেছেন ১০ জন। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন ২২৫ জন, মারা গেছেন সাতজন।

ফায়ার সার্ভিস ও সদর হাসপাতালের তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, ঝিনাইদহে প্রতি সপ্তাহে গড়ে আটটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সপ্তাহে গড়ে আহত হচ্ছেন ৬০ জন এবং নিহত হচ্ছেন তিনজন।

accident

সরেজমিনে ঝিনাইদহের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দেখা যায়, নতুন সড়ক আইনের ফলে পুরাতন আইন নিষিদ্ধ থাকায় যানবাহনের নামে দেয়া হয় না কোনো মামলা। এ সুযোগে মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলছে বাস-ট্রাকসহ তিন চাকার নিষিদ্ধ যানবাহন। শুধু মহাসড়কেই নয়, শহরের ভেতরেও বিশৃঙ্খলভাবে চলছে তিন চাকার যান। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা।

মনিরুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জাগো নিউজকে বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছি তবুও মনে ভয়। বেপরোয়া গতিতে গড়াই-রূপসা বাস চলাচল করছে। কখন কার ওপর উঠে যায় বাস সে আতঙ্ক সবার মনে।

accident

স্থানীয়রা জানায়, বড় যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানগুলো পাল্লা দিয়ে চলছে মহাসড়কে। সরকার নতুন সড়ক আইন করলেও মানছে না কেউ। এমনকি ট্রাফিক পুলিশও এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

বাসচালকরা জানিয়েছেন, বাসের গতি বেশি থাকবেই। দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে না। মূলত মহাসড়কে ছোট যানবাহন বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

তিন চাকার যানবাহন চালকরা বলছেন, মহাসড়কে আমাদের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে আমরা গাড়ি চালাই। পুলিশ মাঝেমধ্যে ধরে। এরপরও সুযোগ বুঝে মহাসড়কে গাড়ি চালাই।

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক বিপুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বেপরোয়া ওভারটেকিং ও যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বাস-ট্রাকের দুর্ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেলের অদক্ষ চালকদের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুতগতি। দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে মহেশপুরে তিন বরযাত্রী নিহত হয়েছেন।

accident

নিরাপদ সড়ক চাই ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি মনোয়ারুল হক লাল জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের পর নিরাপদ সড়ক আইন পাস হয়। ভেবেছিলাম সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। এখন দেখছি, ছবি তোলা আর প্রচারের জন্য লোকজন ডেকে লিফলেট বিতরণ এবং সেমিনার করা হয়। সড়ক আইন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতিতে এখনও অনিরাপদ মহাসড়ক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রধান ট্রাফিক পরিদর্শক কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ঝিনাইদহ জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক কাজী হাসানুজ্জামান বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন হতে হয়তো আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।