দ্বিতীয় দিনে গড়াল রিফাত হত্যার শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সিআইডির দুজন আইটি স্পেশালিস্টের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের সাক্ষ্যগ্রহণ অসম্পূর্ণ অবস্থায় আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সিআইডির আইটি স্পেশালিস্ট জাকির হোসেন ইমনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শুরু করেন আদালত। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন সিআইডির অপর আইটি স্পেশালিস্ট নাজমুল হাসান। এ দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর।

এ মামলার আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেনের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। মিন্নির আইনজীবীর সময় প্রার্থনার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানি তারিখ পিছিয়ে দেন আদালত।

সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে সকালে বরগুনার জেলা কারাগারে থাকা এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে হাজির হন উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে থাকা নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

আদালত সূত্র জানায়, রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মামলার শেষ সাক্ষী বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হুমায়ুন কবির আদালতে সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন দুপুর ১টা থেকে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ না হওয়ায় আগামীকাল বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে আসামিপক্ষের ১০ জন আইনজীবী জেরা করবেন।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর আট জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৪ কার্যদিবসে এ মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। এছাড়া গোলাম সরোয়ার নামে একজন সাক্ষী প্রবাসে থাকায় তার সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারেননি আদালত।

রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক কিসলু বলেন, ইতোমধ্যে রিফাত হত্যা মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করছেন আদালত। কিন্তু তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। তাই আগামীকাল বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, দুই সাক্ষীকে হুমকি দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেছিল গত আট জানুয়ারি। এজন্য আদালতের নির্দেশে সাক্ষীদের হুমকি দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু মিন্নির আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় মঙ্গলবার শুনানি হয়নি।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয়জন আসামি জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।

মিরাজ/এএম/এমএস