রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে রিফাত হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এ মামলার শেষ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন মঙ্গলবার মামলার পূর্বনির্ধারিত তারিখ থাকায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আটজন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এছাড়াও জামিনে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত হন আদালতে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ দিনও আদালতে হাজির হননি এ মামলার পলাতক প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মুসা বন্ড।

দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের জেরা সম্পন্নের মধ্য দিয়ে এ মামলার ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এছাড়া এ মামলার সাক্ষী গোলাম সরোয়ার প্রবাসে থাকায় তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর ধার্য তারিখ থেকে মামলার মাত্র ২৯ কার্যদিবসে ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত।

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের মনোনীত আইনজীবী এম মুজিবুল হক কিসলু জাগো নিউজকে বলেন, রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৭৬ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর প্রত্যেক আসামির আইনজীবী প্রত্যেক সাক্ষীকে জেরা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মামলার মোট ৬ কার্যদিবসে টানা সাক্ষ্য প্রদান করেছেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী মো. হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন। আগামী ১০ মার্চ এ মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরকে আমি জেরা করি। আমার জেরা সম্পন্নের মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলার সময় মিন্নির বাসা থেকে রিফাত শরীফের একটি রক্তমাখা শার্টসহ রক্তমাখা মিন্নির জামা-কাপড় জব্দ করে পুলিশ। পরে আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় যে জব্দ তালিকা দেয়া হয়েছে সেখানে সেই রক্তমাখা জামা-কাপড়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়টি আমি প্রমাণসহ আদালতের নজরে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমি আশা করি মিন্নি ন্যায়বিচার পাবে।

সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন শেষে এ মামলার একমাত্র পলাতক প্রাপ্তবয়ষ্ক আসামি মুসা বন্ডের গ্রেফতার সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলা বিচারাধীন অজুহাতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।

সাইফুল ইসলাম/এমএএস/পিআর