৩৫ ডিম দিয়েছে ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ ‘বাটাগুর বাসকা’ ৩৫টি ডিম দিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল প্রজনন কেন্দ্রের একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ৩৫টি ডিম পাড়ে।
করমজল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান প্রাকৃতিক উপায়ে ৩৫টি ডিমকে ইনকিউবেশন (বালুর মধ্যে রেখে) করে বাচ্চা ফুটানোর কাজ করবে বন বিভাগ। এ প্রক্রিয়া ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে দুই মাসের বেশি সময় লাগবে। মঙ্গলবার বাটাগুর কচ্ছপ ডিম পাড়ায় এ নিয়ে করমজল প্রজনন কেন্দ্রে ৪র্থ বারের মতো ডিম দিল এই বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ।

করমজল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, এর আগে ২০১৭ সালে দুইটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ৬৩টি ডিম দিয়েছিল। যার মধ্য থেকে ৫৭টি ডিম থেকে বাচ্ছা হয়েছিল। পরের বছর ২০১৮ সালে দুইটি কচ্ছপ ৪৬টি ডিম দিয়েছিল। যার মধ্য থেকে ২৪টি ডিম ফুটে বাচ্চা হয়েছিল। ২০১৯ সালে একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের ৩২টি ডিমের সবগুলি থেকে বাচ্চা জন্ম নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের দিকে একদল গবেষক গবেষণা করে পৃথিবী থেকে বাটাগুর বাসকার প্রজাতির কচ্ছপের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার আট বছর পর বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ আদৌ আছে কি-না তা খুঁজতে কাজ শুরু হয়। একপর্যায়ে গবেষকরা দেশের নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন জলাশয়ে আটটি বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ পান। যার মধ্যে ছিল চারটি পুরুষ ও চারটি স্ত্রী কচ্ছপ। এর পরই ওই কচ্ছপগুলোকে গাজীপুর প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর রাখার পর ৯৪টি বাচ্চা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গাজীপুর থেকে ২০১৪ সালে আটটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ও তাদের ৯৪টি ছানাকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল প্রজনন কেন্দ্রে আনা হয়। বর্তমানে করমজল প্রজনন কেন্দ্রে চারটি স্ত্রী বাটাগুর বাসকা কচ্ছপসহ মোট ১৮৩টি কচ্ছপের পরিচর্যা করছে বন বিভাগ।
শওকত বাবু/আরএআর/এমকেএইচ