শ্রমিক হত্যা : ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৭ এএম, ২৭ মার্চ ২০২০

দিনাজপুরের বিরলে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় এককভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইর না হওয়ার নিষেধাজ্ঞার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মাঠে নামা ও টহল, র্যাব-পুলিশের টহলের মধ্যেও তারা এমন কর্মসূচি পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে তারা এককভাবে এ প্রতিবাদ জানায়। এ সময় তাদের হাতে লেখা ছিল ‘রাষ্ট্র তুমি কার? মেহনতী মানুষের না কেবল শোষকের? বিরল জুট মিলে শ্রমিক হত্যা কেন?

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তারা বিরল রুপালী বাংলা জুট মিলে পুলিশের গুলিতে একজন নিহতের ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে বিচার, বিরলসহ সারাদেশের সকল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পূরণ করা এবং সারাদেশে সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানায়। এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ দিনাজপুর শাখার সমন্বয়ক একরামুল হক আবির ও সদস্য হারুনুর রশিদ হিমেল।

তারা বলেন, একজন শ্রমিক বকেয়া বেতন নেয়ার জন্য মিলগেটে অবস্থান নেবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতে করে গুলি বর্ষণের ঘটনা দুঃখজনক। কোনোভাবেই একজন শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেয়ার এমন ঘটনা মেনে নেয়ার মতো নয়। তাই এ ঘটনায় যারা জড়িত প্রকৃতভাবে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেলে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে করে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে সুরত আলী নামে একজন পান দোকানি নিহত হয়।

এ ঘটনায় প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর পুলিশ দাবি করেছে, এ ঘটনায় তাদের ৬ জন সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভা এলাকার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় পান দোকানদার।

এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/এমএস