জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিনাজপুরে যুবকের মৃত্যু, নমুনা সংগ্রহ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২০

দিনাজপুরের বিরামপুরে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক যুবক (৩০) মারা গেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস সন্দেহে ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী।

এদিকে ওই যুবককে চিকিৎসা দেয়া তিন চিকিৎসকসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সব এলাকা জনশূন্য। গ্রাম পুলিশের সদস্যরা ওই এলাকায় যেন কেউ না যান সেজন্য পাহারা দিচ্ছেন। প্রতিবেশী কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলা থেকে আসা পাঁচজন হাফেজ ও স্থানীয় তিন-চারজন মিলে জানাজা শেষে পাশের কবরস্থানে ওই যুবকের মরদেহ দাফন করেন।

কথা হয় ওই যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখ কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় বিজরাগ্রামে মোমিনুর হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজে যান তার স্বামীসহ স্থানীয় খলিলুর রহমান, ফারুক হোসেন ফারুক। সেখানে গিয়ে তার শরীরে জ্বর অনুভব হলে তিনি ১০ মার্চ এলাকায় ফিরে আসেন। গত কয়েকদিন আগে বিরামপুরে ডা. জাকিরুল ইসলাম কাছে চিকিৎসা নেন। এর পরও তার শরীরের কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক জিয়াউর রহমানের কাছে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ সোমবার ভোররাতে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান।

কুমিল্লায় যে বাড়িতে তার স্বামী কাজ করতেন সেখানে কেউ বিদেশফেরত ছিলেন কি-না জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ওই যুবকের স্ত্রী।

ওই যুবকের সঙ্গে কাজ করতে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, যে ব্যক্তির বাড়িতে তারা কাজ করতেন তার ছেলে নাকি বিদেশ থাকতেন। কোন দেশে থাকতেন সে বিষয়ে কিছু জানেন না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা এসে ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহের পর উপজেলা থেকে পাঁচজন হাফেজ এসে তার জানাজা পড়ান। এছাড়া ওই যুবকের বাড়িসহ ১১টি বাড়িতে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু এবং আধা কেজি লবণ পৌঁছানো হয়েছে। অন্যান্য বাড়িতেও একইভাবে খাবার পাঠানো হবে।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পারিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করেছি। এর আগে যে চিকিৎসকদের কাছে তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন তাদেরসহ ওই এলাকার প্রায় ৫০টি বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের সির্ভিল সার্জন আব্দুল কুদ্দুস বলেন, জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।।

এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।