বোরহানউদ্দিনের ইউএনওকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২০

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ( ১৬ এপ্রিল) যে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন তা শুক্রবার প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজীকে কারণ দর্শানোর নোটিশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক নোটিশটি রি-কল বা প্রত্যাহার করেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান ভোলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফরিদ আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও মো. বশির গাজী ও ভোলা কোর্ট ইন্সপেক্টর রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

জানা যায়, ভোলার স্থানীয় একটি মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে কারণ দর্শনার যে নোটিশ করা হয় সেটির যাচাই বাছাই করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক ওই কারণ দর্শনার নোটিশটি রি-কল বা প্রত্যাহার করেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের নতুন বাজারের ব্যবসায়ী সেলামত ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার ডিলার আব্দুল মান্নানকে মোবাইল কোর্টে জরিমানার করার ঘটনায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়।

নোটিশে আগামী ২৮ মে ২০২০ ওই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার যাবতীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন ও আইনগত ব্যাখ্যা আদাতলে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়।

পূর্বের আদালতের নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোলার স্থানীয় এক অনলাইন নিউজপোর্টালে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বোরহানউদ্দিনে চাল চোর ২৫ হাজারে মুক্তি নিউজটি দৃষ্টি গোচরে আসে। সংবাদটিতে বলা হয়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী সেলামতের দোকান থেকে ৯ বস্তা ওএমএস’র চাল জব্দ করা হয়।

পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিাসার মো. বশির গাজী ব্যবসায়ী সেলামতকে ১০ হাজার টাকা ও চালের ডিলার আব্দুল মন্নাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সংবাদটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমান করোনা দুর্যোগের পরিস্থিতিতে ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ এর অপরাধের ঘটনায় ইউএনও মোবাইল কোর্টে আসামিদের জরিমানা করে মুক্তি দেন।

এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী জানান, জব্দকৃত চাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঘর নির্মাণ প্রকল্পের ছিল। কিন্তু ওই অনলাইন মিডিয়ায় চালগুলো ওএমএস'র বলে সংবাদ প্রচার করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এজন্য বিজ্ঞ আদালত ওই অনলাইন নিউজের প্রতিপ্রেক্ষিতে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ঘর নির্মাণ প্রকল্পের চাল বাইরে বিক্রি করায় আমি মোবাইল কোর্টে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে ২০১২ এর ৩৯ ধারায় জরিমানা করেছি।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।