টাঙ্গাইলে ঘূর্ণিঝড়ে ফসলি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি বিধ্বস্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২০

টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের ইছাপুরে শতাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত ও নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘরিয়ায় ৫ একর জমির ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার বিকেলে শিলাবৃষ্টিসহ ঘূর্ণিঝড়ে এসব ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এছাড়াও ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইলে আর ঘাটাইল উপজেলায় আঘাত হেনেছে ওই ঘূর্ণিঝড়। এতে উপজেলা দুটির বৈদ্যুতিক তার, খুঁটিসহ বসতবাড়ি, কৃষি জমিসহ বসত বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

টাঙ্গাইল-ঘাটাইল ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ থেকে ৮টি পুল ক্ষতিগ্রস্ত ও বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অপরদিকে ঝড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

উপজেলা ঘড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আফাজ আলী, ওয়াজেদ আলী, আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, এমনিতেই করোনভাইরাসের কারণে আমরা খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছি। এরমধ্যে ঝড়ে আমাদের পাকা ধান শেষ করে দিলো। এখন আমাদের আর কষ্টের শেষ নাই। না খেয়ে মরতে হবে।

ইছাপুর গ্রামের আ. খালেক জানান, কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে দোকানপাটসহ প্রায় ৫০টি ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের উপর শতাধিক গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

jagonews24

নগরবাড়ি কৃষি কলেজের শিক্ষক বাদশা মিঞা জানান, শিলা বৃষ্টিতে ঘরিয়া চকের অন্তত ৫ একর জমির ইরি ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে খড় ছাড়া কৃষকরা কিছুই ঘরে তুলতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষয়-ক্ষতি লাঘবের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন তালুকদার বলেন, বুধবার বিকেলের হঠাৎ ঝড়ে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পটল, সল্লা ও বাংড়া ইউনিয়নের ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিতে বৃধান ২৮ ও ৮৬ পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা অচিরেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারন করবো।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বাংড়া গ্রামটি। এখানে অনেক বাড়ি-ঘর ভেঙে চুরমার হয়েছে। দেখা যায় বাংড়া ইউনিয়নের ইছাপুরে ধানক্ষেতে ঘরের টিন পড়ে রয়েছে।

কালিহাতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নীপা জানান, ২০/২২টি ঘরবাড়ি, কয়েকটি বিদ্যুতিক খুঁটি এবং ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির সংবাদ পেয়েছি। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আহতের সঠিক কোনো তথ্যও আমার কাছে আসেনি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।