টাঙ্গাইল
রাস্তা কেটে নির্মাণ হচ্ছে যুবলীগ নেতার বহুতল ভবন, দুর্ভোগ চরমে
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যাতায়াতের রাস্তা কেটে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজার এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই এ বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন এলেঙ্গা পৌর যুবলীগের সদস্য পলাশ চন্দ্র দাশ। এ নিয়ে স্থানীয়রা পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন৷ স্থানীয়রা দ্রুতই অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে পুনরায় যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পৌরসভার পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণ বন্ধ করার নোটিশ দিলেও কোনো তোয়াক্কা না করে নির্মাণের কাজ চলছে।
জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচা বাজার থেকে শামসুল হক কলেজ পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে একটি যাতায়াতের রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি ওই রাস্তা কেটে সেখানে একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভবন নির্মাণের কোনো অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। এছাড়া কোনো নকশাও করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একাধিক শ্রমিক দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়াও পাশেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। অন্যদিকে এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজ মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। রাস্তা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তা কেটে প্রায় ১ মাস ধরে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে করে আমাদের চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বেক পেতে হচ্ছে। আমরা দ্রুতই ভবন নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি করছি।
অভিযুক্ত পলাশ চন্দ্র দাশ জাগো নিউজকে বলেন, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে ভবন নির্মাণের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছি৷ এছাড়াও আমি ভবন নির্মাণের জন্য পৌরসভায় আবেদন করেছি। অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে ভবন নির্মাণ করছেন এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি৷
এলেঙ্গা পৌরসভার প্রকৌশলী সবুজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ভবন নির্মাণে আমরা কোনো অনুমোদন দেইনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর সভার প্রশাসক শায়েদা খানম লিজা জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভবন নির্মাণ বন্ধের জন্য মালিকপক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়েছি৷
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পৌরসভার প্রশাসককে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এমএন/এমএস