ইরানের কেশম দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের দক্ষিণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
একসময় পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই দ্বীপটি বর্তমানে পরিণত হয়েছে সামরিক ঘাঁটিতে, যেখানে রয়েছে ইরানের গোপন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহর।
প্রায় ১ হাজার ৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের জন্য অডুবনীয় বিমানবাহী জাহাজ হিসেবে কাজ করে।
দ্বীপের নিচে বিস্তৃত সুড়ঙ্গ ও গোপন স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত হামলার জন্য ব্যবহার করা যায়। আইআরজিসি এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে বলে ধারণা করা হয়।
যুদ্ধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর কেশম দ্বীপ সরাসরি সংঘাতের অংশ হয়ে ওঠে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পানিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এর জবাবে আইআরজিসি বাহরাইনের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার দাবি করে।
সরবরাহ ও জ্বালানি সংকট
কেশম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে ফেলেছে। বর্তমানে অল্পসংখ্যক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজই চলাচল করতে পারছে, তাও বিশেষ সমঝোতার ভিত্তিতে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
কেশম দ্বীপের ইতিহাসও সমৃদ্ধ—প্রাচীন গ্রিক নাবিকরা এটিকে ওরাক্টা নামে চিনতেন। ১৩০১ সালে হরমুজের শাসকরা এখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। ১৬২১ সালে পর্তুগিজরা এখানে দুর্গ নির্মাণ করে। পরে পারস্য ও ব্রিটিশ যৌথ বাহিনী তাদের উৎখাত করে।
সামরিক গুরুত্বের পাশাপাশি দ্বীপটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও অনন্য।
দ্বীপের প্রায় ১.৫ লাখ বাসিন্দা এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতায় বসবাস করছেন—একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেশম দ্বীপ এখন শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং ২১ শতাব্দীর জ্বালানি ও সামরিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম