সরকারের দিকে তাকিয়ে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের বাসিন্দারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ২৩ মে ২০২০

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের, মুরগির খামার, ফসলি জমি ও আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ঘোনা গ্রামের উদ্যোক্তা দুই তরুণ হোসাইন আহম্মদ ও জহিরুল হাসানের স্বপ্ন ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। তারা আপন দুই ভাই। সর্বস্ব দিয়ে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মুরগির খামার করেছিলেন। মুরগির খামারটি ঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ঘর চাপা পড়ে মারা গেছে ৫ হাজার মুরগি।

gaibandha2.jpg

এই দুই তরুণ জানান, তাদের মুরগির খামারের মুরগি মারা গেছে ৮ লাখ টাকার। এছাড়া খামারটি প্রস্তুত করতে খরচ হয়েছিল ৭ লাখ টাকা। খামারটিও পুরোপুরি বিধ্বস্ত। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। ক্ষয়ক্ষতি যা হবার হয়েছে। এখন ৫ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথার ওপরে।

তালা সদরের কিসমোতঘোনা গ্রামে ঘর ভেঙে গেছে কেষ্টপদ দাসের। তিনি বলেন, করোনায় কোনো কাজ নেই। এর মধ্যে ঝড়ে ঘরটি ভেঙে পড়েছে। সংস্কার করার মত কোনো আর্থিক অবস্থাও এখন নেই। আমি দিনমজুর মানুষ। কী করবো এখন। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছি। এখন সরকার যদি আমাদের দিকে দৃষ্টি দেয় সেই অপেক্ষায় রয়েছি।

gaibandha2.jpg

সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আমের ক্ষতি হয়েছে ১৬ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন। দুই হাজার ৭২ হেক্টর জমির সবজির আবাদ নষ্ট হয়েছে। ১০ হাজার ২৫৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। ৫৭.৫০ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮১ কিলোমটার। ৬০ হাজার ৯১৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ও ২২ হাজার ৫১৫টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। জেলায় ৮৬টি মুরগির খামার ও ৯১টি গবাদিপশুর খামার নষ্ট হয়ে গেছে।

উপকূলীয় আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জানান, উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে ২২ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৬টি স্কুলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রিত রয়েছে। ৬ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মত অবস্থা নেই। থাকার জায়গা নেই। এসব মানুষরা এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

gaibandha2.jpg

উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা জিএম মাসুদুল আলম ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, ঝড়ে সবকিছুই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে কাটছে এসব মানুষের জীবন।

সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাসেত বলেন, বিভিন্ন খাতের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে আমরা সরকারকে অবহিত করেছি। সরকার বরাদ্দ দিলে এসব মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

gaibandha2.jpg

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ত্রাণের সঙ্গে আম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে আমরা রয়েছি।

এরই মধ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

gaibandha2.jpg

তিনি জানান, খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের বেড়িবাঁধ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেনাবাহিনীকে এই তিনটি জেলার বেড়িবাঁধ মেরামতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস