এবার স্বস্তিতে ট্রাকচালকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৪৩ এএম, ২৩ মে ২০২০

যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে চারদিন করে বন্ধ থাকে সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। এ সময় ফেরিঘাটে আসা ট্রাকগুলো টার্মিনালে অথবা রাস্তায় দীর্ঘ সারিতে পারের অপেক্ষায় থাকে দিনের পর দিন। ঈদের আগের দিন রাতে কিংবা সকালে যাত্রীবাহী বাসের চাপ কমলে পারাপার করা হতো ট্রাকগুলো। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গণপরিবহন (বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস) বন্ধ অনেক আগে থেকেই। তাই এবার ঘাটে এসেই ফেরি পার হতে পারছে ট্রাকগুলো। এতে স্বস্তি দেখা গেছে ট্রাকচালক ও তাদের সহযোগিদের মধ্যে।

ফরিদপুরগামী একটি ট্রাকের চালক কামাল হোসেন। পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে এসেছেন শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০ টায়। ১৫/২০ মিনিটের মাথায়ই তিনি ফেরিতে ওঠতে পেরেছেন। তার সঙ্গ কথা হয় তিন নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুনে। তিনি জানান, ৩০ বছর ধরে ট্রাক চালকের পেশায় আছেন। কিন্তু এবারের মতো কোনো ঈদে এত সহজে পার হননি কখনও।

paturia03.jpg

একগাল হাসি হেসে বলেন ‘ভালোই লাগছে। ঘাটেই এসেই ফেরি পেলাম।

গণপরিবহন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকা ছাড়তে পারবে মানুষ- সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই বাড়তে থাকে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা। গণপরিবহন না থাকায় এবার ঘাটে ছোটগাড়ি (প্রাইভেটকার ও মাইক্রো) এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি পার হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাকও। ঘাটে পৌঁছেই ফেরি পার হতে পেরে স্বস্তি জানিয়েছেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরাও।

তবে প্রতিটি ফেরিতেই গাদাগাদি করে ঘাট পার হতে দেখা গেছে যাত্রীদের। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি যাত্রীদের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কিংবা বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে সর্তকীকরণ কোনো প্রচারণাও নেই ঘাটে।

paturia03.jpg

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা ছোট গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার করছেন। ছোট বড় ১৬টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। এবার মানুষ স্বাচ্ছন্দে এবং স্বস্তিতেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন।

বি.এম খোরশেদ/আরএআর/এমএস