অন্ধকার চোখেও এগিয়ে গেলেন নিজাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, ২৫ মে ২০২০

পাঁচ মাস বয়সে দুই চোখেরই দৃষ্টি হারায় নিজাম মাদবর (২৭)।তারপরও দৃষ্টিহীন চোখ পড়াশোনার আগ্রহ থেকে একটুও দমাতে পারেনি তাকে। ক্লাসে শিক্ষকদের পাঠদান মুঠোফোনে রেকর্ড করতেন তিনি। এরপর বাড়ি ফিরে সেই রেকর্ড শুনে মুখস্ত করতো পড়া। ব্রেইল পদ্ধতি (দৃষ্টিহীনদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা) ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি।এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন নিজাম মাদবর।

শুধু ইচ্ছাশক্তির জোরেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ মাদবর ও রাহিলা বেগম দম্পতির চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ছোট দৃষ্টিহীন নিজাম মাদবর।

নিজামের সেজ ভাই মো. আমির হোসেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে চাকরি করেন। তার আর্থিক সহায়তায় চলে নিজামের পড়ালেখা। তাছাড়া অনেকের সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

ভাই আমির হোসেন জানান, পাঁচ মাস বয়সে হাম উঠলে নিজামের চোখ দুটো নষ্ট হয়ে যায়। দেশের ভালো ভালো চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করান তারা। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। পাশাপাশি কানেও কম শুনেন নিজাম।

নিজামের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় সমাজসেবার শরীয়তপুর সদরের আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় স্কুল থেকে। পরে প্রাথমিক শেষ করে ২০০৯ সালে আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪.৩১ পেয়ে এসএসসি পাস করেন এবং শরীয়তপুর সরকারি কলেজ থেকে ৪.০০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।

পরে অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায় সাফলের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স শেষ করে, ইসলামিক স্টাডিজ মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।

আমির বলেন, তার ভাই নিজাম ক্লাসে মুঠোফোন নিয়ে যেত। শিক্ষকদের লেকচার (পাঠদান) রেকর্ড করে নিয়ে আসত সে। অনেক সময় রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত পড়ার এ রেকর্ড শুনত সে।

নিজামের মা রাহিলা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ পেয়েছে নিজাম। নিজামের বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন।

নিজাম স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞ। লেখাপড়া শেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।কারণ তিনি অনুভব করতে পারেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতের কষ্ট। তাই ভবিষ্যতে তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক হতে চান তিনি।

আংগারিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার কামাল বলেন, নিজামের মধ্যে প্রচুর উদ্যম ও সাহস আছে। পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল বেশ। ক্লাসে কোনো কিছু না বুঝলে বারবার বুঝে নিত সে। ইচ্ছাশক্তির জোরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজাম। আল্লাহ্ যেন নিজামের ইচ্ছা পূরণ করে।

মো. ছগির হোসেন/এমএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]