প্রতিবন্ধী লেওয়াজার কবিতা দেখে মুগ্ধ ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ০৬ জুন ২০২০

প্রতিবন্ধী লেওয়াজা খাতুন। ঠিকমত চলাফেরা করতে পারে না, তবে মেধাবী। সাতক্ষীরার তালা সরকারি কলেজের অনার্সের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। প্রতিবন্ধকতা জয় করেই চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ প্রতিবন্ধী এই তরুণীর। সময় পেলেই কবিতা, গল্প লিখতে বসে যান এ শিক্ষার্থী।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেনকে নিয়ে একটি কবিতা লিখে ফ্রেমে বাঁধিয়ে উপহার দিতে হাজির হন সরকারি ইউএনও বাংলোয়। দেখে মুগ্ধ ইউএনও তাকে আম দিয়েই নিজ হাতে আপ্যায়ন করান।

লেওয়াজা খাতুন খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার কাশিমনগর গ্রামের ইমাম বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে লেওয়াজা বড়। ছোট বোনটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী লেওয়াজা খাতুন জানান, আমরা খুব অভাবী মানুষ। বাবা কাছিঘাটা এলাকার সরদারপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করেন। ছোটবেলায় এক বোন বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। আমার পায়ে ও হাতে শিরার সমস্যা। এ নিয়ে ঠিকমত চলাফেরা করতে পারি না। পরিবারে অভাবের কারণে চিকিৎসা করা হয়নি।

তালা সরকারি কলেজে অনার্সের বাংলা বিভাগে প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করছি। প্রতিদিন বাড়ি থেকেই যাতায়াত করি। কলেজে থাকার হোস্টেল নেই। তাছাড়া ঘরভাড়া করে থাকার মতো টাকাও আমাদের নেই।

ওই তরুণী আরও জানায়, আমি টিউশুনি করে নিজের ও ছোট বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগায়। বাড়তি টাকা থাকলে সেগুলো বাবাকে দেই। কারো সহযোগিতা ছাড়া কেউ কিছু করতে পারে না। তেমনিভাবে আমারও কারো সহযোগিতা প্রয়োজন।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেনকে নিয়ে নিজের লেখা কবিতা উপহার দেওয়ার বিষয়ে লেওয়াজা খাতুন বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষদের বলতে শুনি, ইউএনও স্যার ঘুষ খাই না, ভালো মানুষ, এমন মানুষ প্রয়োজন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াই সব সময় এসব শুনে আমার ভালো লাগে। তাই স্যারকে নিয়ে আমি কবিতা লিখে ফেলেছি। সেটি আজ (শনিবার) স্যারের হাতে তুলে দিতে তার বাসায় এসেছি। স্যারও খুব খুশি হয়েছে’।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, আমি মুগ্ধ হয়েছি তার কবিতা লেখা দেখে। কবিতাও খুব সুন্দর লিখেছে সে। সাহিত্যের প্রতি তার খুব আগ্রহ। এছাড়া তার অনেক লেখা রয়েছে এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও লেওয়াজা লিখেছে। তার কথা, প্রতিবন্ধী হওয়া কোনো বাঁধা নয়। মানুষ চেষ্টা ও পরিশ্রম করলে সব সম্ভব। সেটি সে করে দেখিয়েছে ও দেখাচ্ছে।

এছাড়া তার লেখাগুলো যদি বই আকারে প্রকাশ করা যায় সেটিও খুব ভালো হয়। তবে সেটি বাস্তবায়ন করতে গেলে সহযোগিতার হাত নিয়ে কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনিকভাবে যেটুকু সহযোগিতার প্রয়োজন সেটুকু আমি করব।

তালা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনি মোহন মন্ডল বলেন, মেয়েটি খুব অভাবী। তবে লেখাপড়ার প্রতি খুবই আগ্রহী। কখনও কলেজে আসা বন্ধ করে না। এছাড়া কলেজে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পারুক না পারুক অংশ নেয়। ভালো করে হাঁটতে পারে না। দেখলেই বোঝা যায় অসহায় পরিবারের মেয়ে। তবে আগ্রহ আছে তার। আমরা কলেজ থেকে থাকে প্রতিবন্ধী বৃত্তি দিয়েছি। এছাড়া কোনো বিষয়ে জানালে তাকে সহযোগিতাও করি।

আকরামুল ইসলাম/এমআরএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।