টাঙ্গাইলে ডুবে গেছে ১৩৭ গ্রাম, পানিবন্দি এক লাখ ২৪ হাজার মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২০
টাঙ্গাইলে এক লাখ ২৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি

টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার আর ধলেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ছয় উপজেলায় এক লাখ ২৪ হাজার ৫৭১ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিন হাজার ৬১৩ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার আর ধলেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

jagonews24

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী ও গোপালপুর উপজেলার ২৪ ইউনিয়নের অন্তত ১৩৭ গ্রাম ডুবে গেছে। কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কিছু এলাকা ডুবে গেছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ডুবে গেছে। ইউনিয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাহমুদনগর, কাতুলী, কাকুয়া, হুগরা ও ছিলিমপুর। ভূঞাপুর উপজেলার চার ইউনিয়ন ডুবে গেছে। এগুলো হলো- অর্জুনা, গাবসারা, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী। কালিহাতী উপজেলার চার ইউনিয়ন ডুবে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, গোহালিয়াবাড়ি, দশকিয়া ও সল্লা।

jagonews24

গোপালপুর উপজেলার ডুবে যাওয়া তিন ইউনিয়ন হলো হেমনগর, ঝাওয়াইল ও হাদিয়া। নাগরপুরের পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে সলিমাবাদ, ভাররা, ধুবুরিয়া, দপ্তিয়র ও পাকুটিয়া। দেলদুয়ার উপজেলার ডুবে যাওয়া তিন ইউনিয়ন হলো আটিয়া, দেউলি ও লাউহাটি। ডুবে যাওয়া এসব ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার ৫৭১ জন।

এদিকে, বন্যায় ৫৩২ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে ৮৭৫ পরিবারের ঘরবাড়ির নদীতে চলে গেছে। নাগরপুরে একটি স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যায় ছয় উপজেলার ১৪৭ বর্গকিলোমিটার প্লাবিত হয়েছে।

jagonews24

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৬.৫ কিলোমিটার (আংশিক) কাঁচা সড়ক এবং এক কিলোমিটার (আংশিক) পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি কালভার্ট (আংশিক) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি টিউবওয়েল এবং ২.৫ কিলোমিটার (আংশিক) নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৩০০ মেট্রিক টন জিরআর চাল ও আট লাখ টাকার চাহিদা রয়েছে। রোববার (০৫ জুলাই) পর্যন্ত ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলায় তিন হাজার ৩৭১ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে বোনা আমন ৯৬৯ হেক্টর, রোপা আমন ছয় হেক্টর, পাট ৩৮৭ হেক্টর, আউশ ধান ৭০৬ হেক্টর, সবজি ২১১ হেক্টর ও তিল ১০৯২ হেক্টর।

jagonews24

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, পানি নেমে গেলে প্রায় ৭০-৮০ ভাগ ফসলি জমির ক্ষতি হবে না। এ ব্যাপারে কৃষি অফিস কাজ করছে।

jagonews24

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, যমুনা আর ঝিনাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও ধলেশ্বরী, পুংলী, বংশাই, ফটিকজানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমে এখন বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার, ঝিনাই নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার ও ধলেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]