ছয় মাস না যেতেই ভেঙে গেল সড়ক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ধল্যা-বিলপাড়া আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের গ্রামনাহালী আদাবাড়ি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত চারটি কালভার্ট স্থানীয় প্রভাবশালীরা বন্ধ করে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাসাইল উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী দুই উপজেলার কমপক্ষে ২৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়কটির গ্রামনাহালী আদাবড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার মাইদুল ইসলাম ও নাজমুল হোসেনের বাড়ির সামনে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। সড়কের প্রায় ১০০ ফুট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ওই বাড়ি দুটি হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সড়কটি দিয়ে মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের ১০ গ্রাম ও বাসাইল উপজেলার ১৫ গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। সড়কটি দিয়ে শতাধিক মোটরসাইকেল, শতাধিক সিএনজি ও ট্রাক ও পিকআপ চলাচল করে। স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর ছয় মাস আগে সড়কের পাশ বর্ধিতকরণসহ সংস্কারকাজ শেষ করেন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি নিষ্কাশনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে চারটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাটি ভরাট করে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। নিষ্কাশনের পথ না থাকায় সড়কের গ্রামনাহালী আদাবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকায় পানির প্রবল চাপে ভেঙে যায় সড়ক। এ অবস্থায় সড়কটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

ধল্যা-বিলপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি বাসাইল উপজেলার সঙ্গে মির্জাপুরের সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম। সড়কটি ভেঙে যাওয়ার ফলে আদাবাড়ি, ভাতকুড়া, গ্রামনাহালী, ছাওয়ালী, বাসাইল উপজেলার বিলপাড়া, কাঞ্চনপুরসহ অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে বিকল্প হিসেবে ওই গ্রামগুলোর মানুষ চার কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছেন।

গ্রামনাহালী আদাবাড়ি গ্রামের কামাল হোসেন, ফয়সাল, জাহানারা বেগম, নাসরিন বেগম ও ভাতকুড়া গ্রামের নাজমুল ইসলাম জানান, ঝিনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামনাহালী আদাবাড়ি হয়ে আসা পানি চারটি কালভার্ট দিয়ে নিষ্কাশন হতো। গ্রামের কয়েকজন ওই কালভার্ট বন্ধ করে দেয়ায় পানি নিষ্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সড়কটি ভেঙে গেছে।

মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ স্থানীয় লোকজন বাড়িঘর নির্মাণ করে বন্ধ করে দিয়েছেন। পানির প্রবল চাপে সড়কটি ভেঙে গেছে। তবে সড়কটির নির্মাণকাজ ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। এজন্য সংস্কারের ছয় মাস না যেতেই পানিতে ভেসে গেছে সড়ক।

তবে নির্মাণকাজ নিম্নমানের বিষয়টি অস্বীকার করে মির্জাপুর উপজেলার প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, বর্ষার পানির চাপে সড়কটি ভেঙে গেছে। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]