৩ বছরেও খবর পেল না তিতাস

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ০৬ জুলাই ২০২০

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় গ্যাস লাইন থেকে তিন বছর যাবৎ অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন লাইন থেকে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে এ গ্যাস বের হলেও বিষয়টি নাকি জানেই না তিতাস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ দিয়ে ঢাকা থেকে মির্জাপুরের ওপর দিয়ে গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন লাইনটি উত্তরবঙ্গে নেয়া হয়েছে। মহাসড়কটি ব্যস্ততম হওয়ায় গত ৫ বছর আগে ফোরলেনে উন্নিতকরণ কাজ শুরু হয়। মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় আন্ডারপাস নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। কিন্তু গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন লাইন থেকে প্রায় ৬শ ফুট এলাকায় বের হওয়া গ্যাস এলাকাবাসীর মধ্যে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় ছোট বড় মিলে প্রায় অর্ধশত কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমিকদের জন্য মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই এলাকায় একটি কাঁচাবাজারও স্থাপন করা হয়েছে। শিল্প এলাকা হওয়ায় বাজারটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। ডিস্ট্রিবিউশন লাইন থেকে মহাসড়ক ভেদ হয়ে বের হওয়া গ্যাস একদিকে মানবদেহের ক্ষতি করছে অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। বের হওয়া গ্যাসে যেকোনো মুহূর্তে আগুন লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মহাসড়কে চলাচলকারীরা জানিয়েছেন।

Gas

কমফিট কম্পোজিট নিট লিঃ এর শ্রমিক রহিম মিয়া, সাউথ ইস্ট ফেব্রিক্স লিঃ এর শ্রমিক আরাফাত রহমান, নাহিদ কটন মিলের নারী শ্রমিক আফরোজা, সুইটি, লালভানু বলেন, মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচলের সময় গ্যাসের গন্ধে নাক চেপে যেতে হয়। যেকোনো সময় আগুন লাগতে পারে। এজন্য ভয়ও কাজ করে।

রিকশাচালক করিম মিয়া ও আলম মিয়া জানান, বৃষ্টি হলে পানি ভুদ ভুদ করে। তখন বেশি ভয় লাগে।

গোড়াই বাজারের ব্যবসায়ী আব্দল হালিম, জোনাব আলী ও সুমন মিয়া বলেন, গোড়াই বাজারের ব্যবসায়ীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। পাইপ থেকে বের হওয়া গ্যাস একদিন বিপদ ডেকে আনবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

Gas

উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক জানান, মহাসড়ক ভেদ করে বের হওয়া গ্যাস এলাকাবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস টাঙ্গাইল অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী সুরুজ আলম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এলাকাটি আমার অফিসের অধীনে হলেও লাইনটি গাজীপুর অফিস দেখে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগ গাজীপুর অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী ফিরোজ কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। জরুরিভাবে আমাদের টিম পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএম এরশাদ/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]