শিকলমুক্ত হলেন সেই ফুল মিয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রোকোনা
প্রকাশিত: ১০:০৩ এএম, ১২ জুলাই ২০২০

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৩ বছরের শিকলবন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন ফুল মিয়া। শনিবার জেলা প্রশাসক মঈন ইসলামের নিদের্শে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বৃদ্ধ ফুল মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে শিকলমুক্ত করেন।

জাগো নিউজে নিজ গৃহে তিন বছর ধরে শিকলবন্দী ফুল মিয়া শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসনের।

এ ঘটনায় স্থানীয় ও সুশীল সমাজ উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। শিকলবন্দি থেকে মুক্তি পেয়ে ওই বাড়ির উঠোনে বৃদ্ধ ফুল মিয়া উপস্থিত ইউএন ও ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান।

স্থানীয়রা জানান, বিরিশিরি ইউনিয়নের পিপুলনারী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফুল মিয়ার মাথায় সমস্যা বলে তিন বছর ধরে তার সন্তানরা একটি রুমের নির্জন কক্ষে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। শনিবার সংবাদটি প্রশাসনের দৃষ্ঠিগোচর হলে তাকে শিকলমুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুল মিয়া মাটির নিচ থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে (ধাতব জাতীয়) মূল্যবান একটি পাথর খুঁজে পান। সেটি ২০০৩ সালে চৈত্র মাসের শুরুর দিকে। পাথরটি তার স্ত্রীর কাছে দেন লুকিয়ে রাখতে। ফুল মিয়া ওই পাথরটি বিক্রি করতে পার্টির খোঁজে বের হন। তিন দিন পর বাড়িতে এসে স্ত্রীর কাছে পাথরটি চাইলে স্ত্রী বলেন পাথরটি সুরুজ মিয়া ও মাওলানা রফিকুলের কাছে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এ কথা শুনে উত্তেজিত হয়ে ফুল মিয়া ঘরে থাকা বটি দিয়ে তার স্ত্রীর গলায় কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্ত্রী আমেনা খাতুন মারা যান।

২০০৩ সালের বৈশাখ মাসের ৬ তারিখ এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানান বৃদ্ধের ছেলে আবু হানিফা। খবর পেয়ে পুলিশ ফুল মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলাও করে। ওই মামলায় ১২ বছর ৫ মাস ১৭ দিন জেল খাটেন ফুল মিয়া। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দীর্ঘদিন এলাকায় ঘোরাফেরা করেন।

পরে পাথর বিক্রি করে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকের সঙ্গে বলাবলি করলে ক্ষেপে যান সুরুজ মিয়া ও রফিকুল ইসলাম। এরই জের ধরে ফুল মিয়ার ছেলেদের অসহায়ত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাবাকে শিকলবন্দি করে রাখার মত দেন সুরুজ আলী ও রফিকুল ইসলাম। সন্তানরাও তাকে ঘরে বন্দি করে দুই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। শিকলবন্দির ৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেননি ফুল মিয়া।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম বলেন, ওই বৃদ্ধকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে জেনেছি। আমি নিজে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে শিকলবন্দি থেকে মুক্ত করেছি। জাগো নিউজের মাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসায় আমি ধন্যবাদ জানাই।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মঈন ইসলাম জানান, সংবাদটি প্রকাশের পর ইউএনওর মাধ্যমে ফুল মিয়াকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কামাল হোসাইন/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।