ঈদের দিনও থেমে ছিলেন না চিকিৎসক-নার্সরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৯:৫১ এএম, ০২ আগস্ট ২০২০

করোনাভাইরাসের এ মুহূর্তে নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। করোনা রোগীদের সেবা দিয়েই কেটেছে তাদের দিন। তবে এসব মেনে নিয়েছেন তারা। বলছেন, এটির মাঝেই আনন্দ খুঁজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসা চলছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে থাকা রোগীদের।

শনিবার ঈদের দিনও হাসপাতালে কাটিয়েছেন ১২০ রোগী। যাদের মধ্যে ৩০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আর বাকিরা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মানস কুমার মন্ডল। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে তিনি হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটিও কাটাতে পারেনি অনেক চিকিৎসক। ফিরতে পারেনি নিজ গ্রামে বা পরিবারের সঙ্গে। বৈশ্বিক ক্রান্তিকালীন সময়ে এটি মেনে নিয়েছেন চিকিৎসকরা। নিজেদের হাসি-খুশি আনন্দকে বিসর্জন দিয়েছেন মানুষের সেবায়। সকালে হাসপাতালে রাউন্ড দিয়েছি। দেখেছি রোগীদের কি অবস্থা।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসক, ৩০ জন ইন্টার্নি চিকিৎসক ও ৪০ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে থাকা রোগীদের সেবা করছেন। বর্তমানে ১২০ জন ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। এর মধ্যে ২০ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত বাকিরা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। এখনও তাদের রিপোর্ট হাতে পাওয়া যায়নি তবে ধারণা করছি, এদের মধ্যে অধিকাংশই করোনা পজিটিভ রয়েছে।

এখন চিকিৎসক ও নার্সদের খাওয়া দাওয়া হাসপাতালে হচ্ছে জানিয়ে ডা. মানস কুমার মন্ডল বলেন, করোনা প্রার্দুভাব শুরুর পর সরকার করোনা চিকিৎসায় দায়িত্বপালনকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের হাসপাতালেই খাবারের ব্যবস্থা করেছে। ঈদের দিনও এসব চিকিৎসক ও নার্সদের খাওয়া হয়েছে হাসপাতালে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী সার্জন শংকর কুমার ঘোষ। ঈদের দিনও দায়িত্ব পালন করছেন এ চিকিৎসক। তিনি জানান, সেবার মানসিকতা নিয়েই আমাদের এ পেশায় যোগদান। দুর্যোগকালীন সময়ে সেবা দেব না, সেটি করা যায় না। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও আমাদের সেবা দিতে হবে। তবে সাধারণ অনেক মানুষ রয়েছে, চিকিৎসকদের বদনাম করেন। তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যখন চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন তখন চুপ রয়েছেন। অনেক চিকিৎসক ইতোমধ্যে মারাও গেছেন। সাধারণ মানুষ ভাবে না দায়িত্বপালন কত কঠিন।

ঈদের দিনে রোগীদের সেবা দিয়েছেন হাসপাতালের নার্স মুসলিমা খাতুন। তিনি জানান, আমাদের এখন ঈদ নেই। আমরা ছুটি নিয়ে ঈদ কাটাতে গেলে রোগীদের সেবাদানে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে করোনা মহামারির এ সময়ে নার্সরা নিজেদের আনন্দ, পরিবারের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে রোগীদের সেবার কাজ করছেন। ঈদের দিনও ডিউটি করছি, খারাপ একটু লাগলেও সেটিকে মেনে নিয়েছি।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের সঙ্গে সাতক্ষীরায়ও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মানুষদের অসাবধানতা ও অচেতনতাই এর জন্যে অনেকাংশে দায়ী। ঈদের দিনও চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা ডিউটি করছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে পারছেন না এটা কষ্টদায়ক বটে তবে এ দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের কথাও ভাবতে হবে, দেশের কথা ভাবতে হবে। এসব ভাবনা নিয়েই কোনো প্রকার কষ্ট ছাড়াই চিকিৎসক ও নার্সসহ স্টাফগণ সেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কর্মস্থলে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জড়িতরা সেবার কাজ চালিয়ে যাবে।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]