গত ঈদে ৯শ চামড়া পুঁতে দিয়েছে আরবিয়া মাদরাসা, এবার কেনা বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ০২ আগস্ট ২০২০
ফাইল ছবি

গত বছরের ন্যায় এ বছরও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে কোরবানি দেয়া পশুর চামড়া সংগ্রহ করেনি কেউ। গত কোরবানির ঈদেও পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরবিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে প্রায় ৯০০ চামড়া মাটিতে পুঁতে দেয়া হয়েছিল।

তবে প্রতিবছরের মতো সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরবিয়া মাদরাসা ওই এলাকার চামড়া সংরক্ষণ করে এলেও গেল বছরের আর্থিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে এ বছর তারা কোনো চামড়া সংগ্রহ করেনি বলে জানায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এতে করে এসব এলাকার কোরবানি দাতারা চামড়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া স্থানীয় কোরবানিদাতারা এলাকার মাদরাসা ও মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছায় দান করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছরের ঈদুল আজহার কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের সংগ্রহকৃত ৯০০ পশুর চামড়া মাদরাসা প্রাঙ্গণ এলাকায় মাটিতে পুঁতে দেন।

তবে এবার ঈদের আগেই মাদরাসা প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেয় যে এবার কোরবানির চামড়া তারা নেবেন না। তাই কোরাবানি করা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার কোরবানিদাতারা।

স্থানীয়রা আরও জানান, কোরাবানি করা পশুর চামড়া সংরক্ষণ করা না গেলে চামড়া মাটিতে পুঁতে দেয়া হতে পারে কিংবা বন্যার পানিতে ফেলে দেয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে করে পরিবেশের ভাস্যমান হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা তাদের।

সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরবিয়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সৈয়দ ফখরুল ইসলাম জানান, গত বছর কোরবানি দেয়া পশুর চামড়া মাদরাসার উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হলেও একটিও চামড়াও বিক্রি হয়নি। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম আমরা। পরে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে দেয়া হয়েছিল। তবে এবার করোনাভাইরাসের শঙ্কা থাকায় ঈদের আগেই এলাকাবাসীদের জানিয়ে দেয়া হয় এ বছর কোনো চামড়া নেয়া হবে না।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য আমরা সচেতনতামূলক প্রচারণা করেছি। সৈয়দপুর এলাকায় চামড়াগুলো একটি স্থানে সংরক্ষণ করার জন্য ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে সিলেট নগরীর চামড়া ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোসাইদ রাহাত/এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]