সেতুর ওপর ঈদ কাটল শতাধিক পরিবারের

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১০:৫৪ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীতে নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে ঈদ কেটেছে শতাধিক পরিবারের।

বন্যায় বাড়িঘর ছেড়ে সেতুতে আশ্রয় নিয়ে সেখানেই ঈদ করেছেন তারা।

জানা গেছে, মির্জাপুর পৌর এলাকার পোস্টকামুরী পূর্বপাড়ার (সওদাগরপাড়া) অধিকাংশ বাড়িঘর বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ওই পাড়ার অন্তত শতাধিক পরিবার বংশাই নদীর ওপর নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ সেখানে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বাস করছেন। রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের ।

শনিবার সরেজমিনে ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের এ চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুতে শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। যাদের অধিকাংশই ছাতা, গ্যাসলাইটার মিস্ত্রি, ফেরি করে কাঁচের জিনিস এবং ক্ষুদ্র কসমেটিকস বিক্রি ও মুদি দোকানী। অনেকেই আবার অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা মূলত বেদে সম্প্রদায়ের বলে জানান স্থানীয়রা। 

tangile

সেতুতে আশ্রয় নেয়া বাবলী জানান, বন্যায় ঘর ডুবে যাওয়ার পর স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে প্রায় ১২ দিন আগে আশ্রয় নেন একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর। স্বামী গ্যাসলাইটার ও ছাতা মেরামত করেন বলে জানান বাবলী।

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে তেমন কাজ নেই। তার ওপর বন্যা। বাড়ি ছেড়ে সেতুর ওপর ঠাঁই নেয়ার পর কোনো রকমে সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না–খেয়ে দিন কাটছে।

বৃদ্ধা সোনাভানু বলেন, ‘১২ দিন ধইরা এনে আইছি। খ্যায়া না খ্যায়া দিন কাটাইতাছি। একবার একজনে আয়্যা কয়ডা চ্যাল দিল। তারপর আর কেউ খবর নিল না। কাম নাই। ভালো খাওন নাই। খালি ঘুম আর ঘুম। খালি প্যাটে তো ঘুমও আহে না।’

tan

গরু-ছাগল নিয়ে সেতুতে আশ্রয় নিয়েছেন ছমন মিয়া। তিনি সেই গবাদিপশুর সঙ্গে একই পলিথিনের ছাউনিতে ঘুমান বলে জানান। 

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, সেতুর ওপর আশ্রয় নেয়া লোকদের সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/ এএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]