প্রভাকে বাঁচাতে আরও কিছু টাকা দরকার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০২০

হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটছে শিশু সেজুতি দাস প্রভার। ক্যান্সার ধরা পড়েছে তার। অভাবে মেয়ের চিকিৎসার হাল ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা। নিজেদের সর্বস্ব বিক্রি করে নিরূপায় হয়ে আহাজারি করছিলেন মা জোসনা রানী দাস।

পাঁচ বছর বয়সী প্রভা সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের বারাত গ্রামের সদয় দাসের মেয়ে।

বাবা একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। চাকরিও চলে গেছে মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে। ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর “বাবার চাকরি নেই, অভাবে কেমো বন্ধ হয়ে গেছে মেয়ের” শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন হৃদয়বান ব্যক্তির দেয়া সহযোগিতায় ভারতের ভেলোরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় প্রভার। তবে টাকার অভাবে চিকিৎসা শেষ হয়নি।

বর্তমানে বন্ধ রয়েছে প্রভার চিকিৎসা। প্রভা বর্তমানে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সঙ্গে রয়েছেন তারা বাবা সদয় দাস। মা জোসনা রানী দাস একমাত্র মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়ে ঘুরছেন এলাকায় এলাকায়।

প্রভার মা জোসনা রানী দাস বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রভা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্যান্সার ধরা পড়ে। ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন বাংলাদেশি চিকিৎসকরা। এরপর ভারতের ভেলোরে হাসপাতালে ভর্তির পর নিজেদের গরু, ছাগল, সামান্য জমিটুকুও বিক্রি করে সব টাকা খরচ হয়ে যায়। চিকিৎসার হাল ছেড়ে দেয় প্রভার বাবা। এরপর আমি তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাই। এসব ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মানুষের দেয়া সহযোগিতা ও নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করেছি।

তিনি বলেন, করোনার লকডাউনের আগে ভারত থেকে ছুটিতে বাড়ি পাঠিয়ে দেন সেখানকার চিকিৎসক। দুই মাস পর আবার যাওয়ার কথা থাকলেও লকডাউনের কারণে যেতে পারিনি। অবশেষে সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়েছে প্রভাকে। তবে খরচ করার মতো কোনো টাকা আর অবশিষ্ট নেই।

প্রভার বাবা সদয় দাস জানান, ঢাকার কল্যাণপুরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রভা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে সেখানে। এখানে আটটি কেমো দিতে হবে। প্রতিটি কেমো দিতে আনুষঙ্গিকসহ ১০ হাজার টাকা খরচ। এছাড়া এখানে একটি বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। তিন মাস থাকতে হবে। প্রতিদিন মেয়ের ওষুধপত্রসহ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ। সব মিলিয়ে এখনও তিন লাখ টাকার প্রয়োজন। তারপর ভারতে গিয়ে কানের একটি অপারেশনও করতে হবে। সেখানে আরও খরচ। দিশেহারা হয়ে পড়েছি ঢাকা শহরে।

প্রভার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রভার চিকিৎসা চলছে। ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে কত টাকা খরচ হবে সেটি পুরো ফাইল না দেখে এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

প্রভার চিকিৎসায় উদ্যোগ নেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রভার জন্য সহযোগিতার জন্য ছুটেছেন তিনিও।

ইউএনও ইকবাল হোসেন বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রভা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথে। তবে আবারও টাকা সংকটে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। হৃদয়বান মানুষদের আর একটু সহযোগিতা হলেই সুস্থ হয়ে উঠবে প্রভা।

তিনি বলেন, আমার তত্ত্বাবধানে প্রভাকে চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য একটি ফোন নম্বর দিয়ে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছি। সমাজের হৃদয়বান মানুষরা চাইলে প্রভার জন্য সহযোগিতা করতে পারবেন এ নম্বরে (০১৩০১৮২৯৭৭৭)।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]