আ.লীগে যোগ দিয়ে নিজের নামে এলাকার নাম করলেন বিএনপি নেতা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০২০

জমির কাগজ, রেকর্ডসহ সরকারি সব কাগজপত্রে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১নং ওয়ার্ডের একটি এলাকার নাম মিজমিজি বাতানপাড়া।

এমনকি ওই এলাকার বসবাসকারীদের ভোটার আইডি কার্ডেও এলাকার নাম মিজমিজি বাতানপাড়া। কিন্তু ঈদুল আজহা উপলক্ষে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো ব্যানারে এ এলাকার অর্ধেকাংশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘রওশন নগর’।

বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি রওশন আলী তার নামে এলাকার নামকরণ করতে চালাচ্ছেন এ প্রচারণা।

এলাকাবাসীকে বাধ্য করছেন সাইনবোর্ড, বিভিন্ন কাগজে-কলমে ‘রওশন নগর’ লিখতে। রওশন আলী ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থানা আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

সেই থেকে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী বলে এলাকায় পরিচয় দিয়ে আসছেন। অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় অপারেশন ক্লিনহার্টে নেতৃত্ব দেয়া বাহিনী তার বিরুদ্ধে জমি দখল, জমির ভুয়া-নকল কাগজ তৈরির অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার তিন ট্রাঙ্ক জমির ভুয়া কাগজ পুড়িয়ে ফেলেন।

ওই সময় তাকে আটক করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। মিজমিজি বাতানপাড়া’র স্থলে তার নামে এলাকার নাম ‘রওশন নগর’ করা হলে এ এলাকার জমির সব রেকর্ডপত্র, ভোটার আইডিকার্ডসহ সরকারি সব কাগজপত্র পরিবর্তন করতে হবে। এতে অনেক বিড়ম্বনা, হয়রানির শিকার হতে হবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে একটি এলাকার নাম হঠাৎ পরিবর্তন করে একজন ব্যক্তির নামকরণ নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তবে নাসিক মেয়র বলছেন, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাগজপত্রসহ গেজেটে যে এলাকার নাম যেভাবে রয়েছে সেভাবেই থাকবে।

ওই এলাকার ৭০ বছর বয়সী স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে এ এলাকার নাম আমরা মিজমিজি বাতানপাড়া শুনে আসছি। ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকার বিভিন্ন মোড়ে, রাস্তার বিদ্যুতের খুঁটি, ভবনের পাশেসহ নানা জায়গায় ব্যানার সাঁটানো হয়।

ব্যানারগুলোতে এলাকার নাম উল্লেখ করা হয় ‘রওশন নগর’। অরবিট সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সামাজিক সংগঠনের নামে এ ব্যানারগুলো সাঁটানো হয় এলাকায়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা রওশন আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ রাসেল। লকডাউনের সময় সংগঠনটির নামে রাসেল কিছু ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। এ সামাজিক সংগঠনের জন্য এ এলাকায় নতুন জমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও নতুন ভবন, বাড়ি নির্মাতাদের কাছ থেকে ডোনেশনের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

তাছাড়া এ এলাকায় নতুন বাড়ি করতে আসা লোকদের কাছে জোরপূর্বক ইট, রড, সিমেন্ট ও বালু বেশি দামে ক্রয় করে নিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে রওশন আলীর ভাই অলিউল্যাহ এবং ছেলে আবুল কালাম আজাদ রাসেলের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও অন্যের জমি জোরপূর্বক দখল করে অর্থ আদায়, বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে চাঁদাবাজির শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে যায় না পরবর্তীতে ঝামেলার ভয়ে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন, কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি একটা এলাকার নাম নিজের নামে নামকরণ করতে পারেন না। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কাগজ-পত্রসহ গেজেটে যে এলাকার নাম যেভাবে রয়েছে সেভাবেই থাকবে। রওশন নগর নামে কোনো ব্যক্তির নামে কোনো এলাকা আমি উদ্বোধন করার সিডিউল কাউকে দেইনি। কেহ এমন বলে থাকলে মিথ্যা বলছেন।

এ ব্যাপারে রওশন আলী জানায়, আমার ছেলে রাসেল জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা। মিজমিজি বাতানপাড়ার ক্যানেলপাড়ের দক্ষিণাংশকে আমার ছেলে রাসেল আমার নামে ‘রওশন নগর’ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সে মেয়রের লোকদের সাথে যোগাযোগ করছে। তার সাথে মেয়রের লোকদের সম্পর্ক ভালো। তবে সে এখনও কোথাও কোনো অবেদন করেনি। ওই এলাকার কিছু প্লট বালু ভরাট করার পর মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভিকে দিয়ে উদ্বোধন করাবো। ওই সময় আপনাদেরকে (সাংবাদিক) দাওয়াত দেব।

এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]