মেম্বারের মহিষের দখলে কৃষকদের ১৫০ একর জমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা মহিষ ছেড়ে দিয়ে কৃষকদের ১৫০ একর চরের জমি দখল করেছেন। উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকাচিয়া গ্রামের নতুন চরে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতার দাপটে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন চরের কৃষকরা। দখলদার আওয়ামী লীগ নেতার নাম মফিজ খান। তিনি উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান চরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মালিক পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মহিষ সরিয়ে নেয়ার জন্য বলেছেন।

mahis2

চরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনার বুকে জেগে ওঠা নতুন চরের ১৫০ একর জমিতে শতাধিক কৃষক গত ১১ বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। এর মধ্যে ২০০৩-২০০৪ সালে ৬৬ জন কৃষককে ৬৬ একর জমি সরকার বন্দোবস্ত দেয়। এই চরে মৌসুমে ধান ও সয়াবিন চাষাবাদ হয়। উৎপাদনও ভালো। সম্প্রতি চরটি বরিশাল জেলার দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতা খাসেরহাটের মফিজ খান, হায়দরগঞ্জের টিটু হাওলাদার ও তাদের অনুসারীরা দখলের পাঁয়তারা চালান। ১৫ দিন আগে কৃষকদের জমি দখলে নিতে তারা চরে তিন শতাধিক মহিষ ছেড়ে দেন। মহিষের বিচরণে জমিতে রোপণ করা রোপা আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, জমি দখলের বিষয়টি তদন্তের জন্য রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া সরেজমিনে যান। এ সময় তিনি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে দখলদারদেরকে মহিষগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেও তারা কর্ণপাত করেননি। উল্টো গত ৫ আগস্ট থেকে মফিজ ও টিটু হাওলাদারসহ তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরে মহড়া দিচ্ছেন। এছাড়া কৃষকদের ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিচ্ছেন তারা। এতে চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন চরের বাসিন্দারা। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে মোতালেব হোসেন বাদী হয়ে দখলদার মফিজ খান, টিটু হাওলাদারসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

mahis2

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, কৃষকদের জমি দখলে নিতে মফিজ সম্প্রতি তিন শতাধিক মহিষ চরে ছেড়ে দিয়েছেন। এতে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মফিজ ও তার লোকজন চর এলাকায় প্রতিনিয়ত অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন। মফিজরা বহিরাগত, অন্য এলাকা থেকে এসে চর দখল করায় আওয়ামী লীগের বদনাম হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একাধিকবার কল দিলেও মফিজ খানের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, মহিষগুলো চরে ছেড়ে দেয়ায় কৃষকদের ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। মহিষগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য মালিকদের বলা হয়েছে। চরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দুই পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলেছি।

কাজল কায়েস/এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]