নকল আটকে রেখেছেন সাব-রেজিস্ট্রার!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির জমি রেজিস্ট্রি দলিলের নকল আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গোছে।
দু-তিন দিনের মধ্যে নকল পাওয়ার কথা থাকলেও এক বছরেও নকল পাননি ভুক্তভোগী সাহাব উদ্দিন আহমেদ। উল্টো তার জমি এখন বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এ ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রার মো. মিজাহারুল ইসলামকে গত ৮ আগস্ট আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সাহাব উদ্দিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামের এ.কে.এম. মাহফুজ আলী তার মালিকানাধীন গুনিয়াউক মৌজার বিএস ৯৮৪ দাগের ১ একর ৯০ শতাংশ ভূমি থেকে তার ছোট ছেলে এ.কে.এম. মঈন আলীকে ২০ শতাংশ সাফ কাবলা (২২৬৭ নম্বর) ১৯৯৫ সালের ২ জুলাই দলিল করে দেন।
পরে মঈন আলী ওই ২০ শতাংশ জায়গা থেকে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর ৬১৯৩ নং এওয়াজ বিনিময় দলিল মূলে মো. সাহাব উদ্দিন আহমেদকে সাড়ে ৩ শতাংশ ভূমির মালিকানা দখলার্পণ করেন। এরপর সাহাব উদ্দিন সেখানে মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু করেন।
সাহাব উদ্দিনের অভিযোগ, তিনি সহিমোহরি নকল সংগ্রহের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু নকল সরবরাহ না করে, সাব-রেজিস্ট্রার মিজাহারুল তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখান।
সাহাব উদ্দিনের মালিকানাধীন ওই সাড়ে ৩ শতাংশ ভূমি ‘ওয়াকফ আল আওলাদ’ দলিল করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং সাব-রেজিস্ট্রারের সৃষ্ট ওই দলিলের একটি কপি তাকে সরবরাহ করেন। সেই কপি দেখে হতভম্ব হয়ে যান সাহাব উদ্দিন।
নকল আটকে রেখে এখন আরেকটি দলিল তৈরি করে তাতে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করছেন সাব-রেজিস্ট্রার মিজাহারুল।
সাহাব উদ্দিন জানান, এ.কে.এম. মাহফুজ আলীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান এ.কে.এম. মোমেন আলীর সঙ্গে যোগসাজশে সাব-রেজিস্ট্রার তার ভূমি কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
সাব-রেজিস্ট্রার মিজহারুলের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ নভেম্বর নাসিরনগর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হওয়া একটি জাল দলিল নিয়ে আদালতে মামলা হয়। গত ২৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কুন্ডা ইউনিয়নের মুছলন্দপুর গ্রামের সারবানু বিবি মামলাটি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাসিরনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মিজাহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। সাব-রেজিস্ট্রারও আমাকে কিছু বলেননি। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
আজিজুল সঞ্চয়/এমএএস/পিআর