প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, ৩৬ দিন পর লাশ উত্তোলন
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কলেজ শিক্ষার্থী মহিনের পরিবারের অভিযোগ ছিল প্রেমের কারণে প্রেমিকার ভাই ও স্বজনরা তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালিয়ে মরদেহ দাফনে বাধ্য করেছিল। কিন্তু বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা এর রহস্য বের করতে ঘটনার ৩৬ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মহিনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ওই কলেজ শিক্ষার্থী সৌদিপ্রবাসী আবুল হাসেমের ছেলে।
মামলার অভিযোগ, স্থানীয় সূত্র ও স্বজনরা জানান, রাজামেহার ইউনিয়নের মরিচা সায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে রাজামেহার ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আদর্শ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী মাঈনুদ্দিন মহিনের দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৮ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় মহিন মরিচা দক্ষিণ পাড়া (হোসেনপুর) গ্রামের প্রেমিকার বাড়িতে গেলে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যদের মারধরের শিকার হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে ওই প্রেমিক যুগলের বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
মহিনের বোন আয়শা আক্তার জানান, তার ভাইকে ঘটনার দিন রাতে প্রেমিকার বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে তাদের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মহিনের মা সুরাইয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রেমিকা ও প্রেমিকার বড় ভাইসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ২৬ জুলাই কুমিল্লার ৪ নম্বর আমলী আদালতে হত্যা মামলা করেন। ২৯ জুলাই মহিনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।
রোববার দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মহিনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানা পুলিশের এসআই আব্দুস সালাম ও এএসআই রুহুল আমীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানা পুলিশের এসআই আব্দুস সালাম বলেন, তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রাপ্তির পরই বলা যাবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সরকার বলেন, মহিনের মায়ের অভিযোগ তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এখন মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/এমএস