কুমিল্লা-সোনামুড়া নৌপথ চালু, প্রথম চালানে গেল ১০ টন সিমেন্ট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কুমিল্লা বিবিরবাজার সীমান্ত দিয়ে প্রথমবারের মতো কুমিল্লা-ভারতের সোনামুড়া নৌপথে পণ্য পরিবহন চালু হয়েছে। শনিবার গোমতী নদীপথে ১০ টন সিমেন্ট নিয়ে একটি বার্জ ভারতের সোনামুড়া যায়।

দুপুরে কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকায় এ পথের উদ্বোধন করে নৌযানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত নৌবাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তবে গোমতী নদীতে ন্যাব্য সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের ৪ ঘণ্টা বিলম্বে সিমেন্টের প্রথম চালানটি ভারতের সোনামুড়া যায়।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, গোমতী নদীর ১২-১৪টি পয়েন্টে ন্যাব্যতা সংকট দূরীকরণসহ নদীপথে সব প্রতিবন্ধকতা নিরসন করে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে এ পথটি সক্ষম নৌবাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

জানা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি, তিতাস, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও আদর্শ সদর উপজেলার বুক চিড়ে বয়ে গেছে গোমতীর ৯২ কিলোমিটার নৌপথ। এর মধ্যে প্রায় ৮৯.৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে এবং অপর অংশ ভারতের ত্রিপুরা এলাকায়।

jagonews24

শনিবার এ নদী দিয়ে দাউদকান্দি থেকে নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টন সিমেন্ট বোঝাই চালান পাঠানো হয় ভারতের ত্রিপুরায়। জানা গেছে, শুরুতে নদীর নাব্যতা কম থাকায় সিমেন্ট বোঝাই জাহাজটি পথিমধ্যে ১২-১৪টি পয়েন্টে নাব্যতা সংকট ও গভীরতা কম থাকা এবং কম উচ্চতাসম্পন্ন ব্রিজ থাকায় আটকে যায়।

বেলা ১১টার দিকে উদ্বোধনের কথা থাকলেও নাব্যতা সংকটের কারণে আটকে যাওয়ায় প্রায় ৪ ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে সিমেন্টের প্রথম চালানটি সোনামুড়া পৌঁছায়।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে নদীপথে রফতানি হওয়া মালামালের চালান গ্রহণের জন্য সোনামুড়ায় একটি ভাসমান জেটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের সোনামুড়া এলাকায় উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক, শিল্প সচিব কিরণ গীত্তা, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার ক্রিটি চাকমা প্রমুখ।

বাংলাদেশ অংশে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকায় বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক।

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আজিম উল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-এ সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আনোয়ারুল হক, বিবিরবাজার সিঅ্যান্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল প্রমুখ।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী বিবিরবাজার স্থলবন্দরে পৌঁছান। পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত নদীপথে বাণিজ্যের বিষয়টি গত মে মাসে ঢাকায় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ভারতের ধুলিয়ানের সাথে রাজশাহী এবং অপরটি হচ্ছে দাউদকান্দি থেকে ভারতের সোনামুড়া।

jagonews24

আজ ফার্স্ট ট্রায়াল রানে সিমেন্ট রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে। এটা খুবই ঐতিহাসিক ডেভেলপমেন্ট (উন্নয়ন) আমাদের জন্য। কারণ ট্রাকে করে বেশিরভাগ পণ্য সীমান্ত অতিক্রম করে। এটা পানি দিয়ে অতিক্রম করলে কোভিডের মধ্যে কম লোকের সংস্পর্শ হয়। এটা পরিবেশের জন্যও ভালো ও সাশ্রয়ী। করোনার মহামারির সময়েও আমাদের দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রজেক্ট খুব ভালোভাবে চলছে। এটা একেবারেই সত্যি, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন।

তিনি বলেন, এ ট্রায়াল রানের মাধ্যমে নদীপথে বিভিন্ন অসুবিধা চিহ্নিত করে পরবর্তীতে নিয়মিত কার্যক্রম চালু হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, সবকিছু ছাপিয়ে এ রুটে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটা একটা বিশাল সাফল্য। এ ট্রায়াল রানের মাধ্যমে আমাদের কোথায় কোথায় নাব্যতা সংকট আছে তা চিহ্নিত করতে পেড়েছি। ইতোমধ্যে গোমতী নদী ড্রেজিংয়ের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ রুটের বিষয়ে ত্রিপুরা তথা ভারত সরকার খুব বেশি আগ্রহী। এর মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, গোমতী নদীর ১২-১৪টি পয়েন্টে নাব্যতা সংকট রয়েছে। বড় ধরনের জাহাজ আনতে চাইলে নদীর গভীরতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া বেশকিছু কম উচ্চতাসম্পন্ন ব্রিজ রয়েছে, এ নিয়ে কাজ করতে হবে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে এটি সক্ষম নৌবাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

কাস্টম এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ‘বিবিরবাজার স্থলবন্দর আর গোমতী নদীর নৌপথের দূরত্ব ২০০ মিটার। এ স্থলবন্দর দিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়েছে ৯২ কোটি ৪৬ লাখ ৪২ হাজার এবং ভারত থেকে আমদানি পণ্যে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৩ লাখ টাকা। নৌপথে পণ্য আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে রাজস্ব আয় আরও বেড়ে যাবে।

কামাল উদ্দিন/এমএএস/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।