কিশোরীর গায়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ, হাসপাতালে দেখতে গিয়ে যুবক ধরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

কুমিল্লায় হারুন নামে এক রঙ মিস্ত্রির দেয়া অ্যাসিডে ঝলসে গেছে ১৩ বছরের এক কিশোরীর শরীর। জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমের টানাপোড়েনের জেরে তাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে হারুন নামের ওই যুবক। হারুন অ্যাসিড নিক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া নোয়াপাড়া গ্রামে বাগড়া-কুমিল্লা সড়কের পূর্ব পাশের মো. হোসেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মোখলেছ মিয়া ও তার পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মোখলেছ মিয়া, তার স্ত্রী, ১৩ বছরের মেয়ে মনি আক্তার ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে মোখলেছের মেয়ে ১৩ বছরের মনিকে দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।

এসময় তাদের সহযোগিতায় মনিকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিশোরীর বাবা মোখলেছ মিয়া জানান, আমি রঙ মিস্ত্রির কাজ করি। পেশাগত কারণে চট্টগ্রামে ছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকার রঙ মিস্ত্রি হারুনের (২৬) পরিবারের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্টতা বাড়ে।

পরে আমি পরিবার নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার বাগড়া নোয়াপাড়া গ্রামে চলে আসার পর হারুনও ওই এলাকায় এসে বাসা ভাড়া নিয়ে রঙ মিস্ত্রির কাজ করতো। বিভিন্ন সময় সে তার মেয়ে মনিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু এতে সে সাড়া না দেয়ায় অ্যাসিড নিক্ষেপ করে আমার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করে।

এদিকে হারুন আহত মনিকে দেখতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে শনিবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পরে।

কুমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. মির্জা তাইয়্যেবুল ইসলাম বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যাসিড পড়েছে। ঝলসে গেছে ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ। গভীর ক্ষতও রয়েছে। এ ধরনের রোগী কুমিল্লায় রাখা হয় না। কারণ সেই ধরনের সাপোর্ট এখানে নেই। তবে তার বয়স কম হওয়ায় সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করছি। চিকিৎসা চলছে।

অ্যাসিড দগ্ধদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, আমরা তার খোঁজ খবর নিয়েছি। সরেজমিন গিয়ে তার পাশে দাঁড়াবো।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় হারুনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর রোববার আদালতে পাঠানো হলে সে (হারুন) মনির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে অ্যাসিড ছুড়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

কামাল উদ্দিন/এমএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]