আংশিক থেকে পূর্ণাঙ্গ হয়নি ৩১ মাসেও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০
সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি তাদের এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে আরও ১৯ মাস আগেই। ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রবিউল হোসেন রুবেলকে সভাপতি ও শাহাদাৎ হোসেন শোভনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। নানা নাটকীয়তা শেষে সম্মেলনের ৯ দিন পর ঘোষিত ওই আংশিক কমিটি আজও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এতে করে যেমন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের মনে চাপা ক্ষোভ রয়েছে তেমনি দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরিরও সুযোগ হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অনেকটা ঘটা করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শহরের লোকনাথ দিঘির ময়দানে অনুষ্ঠিত সেই সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়রগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে রহস্যজনক কারণে ওই দিন নতুন কমিটি ঘোষণা না করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়েন সোহাগ-জাকির।

পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হোসেন রুবেল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শোভনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে সহসভাপতি পদে সুজন দত্ত ও শামীম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মোমিন মিয়া ও নাঈম বিল্লাহ্ এবং প্রচার সম্পাদক করা হয় শহিদুল ইসলাম রুবেলকে। তখন অভিযোগ ওঠে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেয়া হয়েছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ এক বছর। কিন্তু মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি সেই আংশিক কমিটির নেতারা। এতে করে দলে যেমন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না তেমনি পদ প্রত্যাশীদের মনেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

যদিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আংশিক কমিটির নেতারা কেন্দ্রে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলেও আবার কখন সম্মেলন হবে, কখন নতুন কমিটি হবে সেটি নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে এক প্রকার হতাশা কাজ করছে।

এছাড়া অনেক পদ প্রত্যাশীদের পদে আসার জন্য নির্ধারিত বয়স পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও এখন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেও বয়সের কারণে বাদ পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন নতুন করে পদ প্রত্যাশীদের অনেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পদপ্রত্যাশী বলেন, কমিটিতে জায়গা পাওয়ার আশায় দিন কেটে যাচ্ছে, কিন্তু কমিটি আর হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে বিলম্ব হওয়ার কারণে আমাদের অনেকেরই বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আংশিক কমিটির নেতাদের উচিত এ বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নজরে আনা।

তবে পূর্ণ মেয়াদেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারার বিষয়টিকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ব্যর্থতা হিসেবেই মনে করছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বলেন, আমরা সুপারিশ করে গত বছরের জুলাই মাসেই কমিটি জমা দিয়ে রেখেছি। কিন্তু তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কথা হয়েছিল আমাদের কমিটি দেওয়া হবে। মার্চে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর কারণে আর কমিটি হয়নি। আশা করছি অচিরেই জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]